Loading...

  • 26 Aug, 2026
সর্বশেষ

প্রতারণার মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে বিদিশা সিদ্দিককে

প্রতারণার মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে বিদিশা সিদ্দিককে

প্রতারণার মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোহম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।

গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বুধবার সকালে বিদিশা সিদ্দিককে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশানের এরাবিকা রেস্টুরেন্ট থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। সেই পরোয়ানা কার্যকর করেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিদিশা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে আদালতে বিচারাধীন ছিল। মামলায় প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, রাজধানীর বারিধারা এলাকার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির কথা বলে প্রতারণা করার অভিযোগে ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন সিকদার ২০০৮ সালে গুলশান থানায় মামলাটি করেন।

মামলার অভিযোগে ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের মে মাসে আদালত মামলাটির রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিদিশা সিদ্দিককে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

আদালতের রায়ে বলা হয়, নির্ধারিত জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রায়ের পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে সেই পরোয়ানার ভিত্তিতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

বিদিশা সিদ্দিক সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মোহম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তার উপস্থিতি নিয়ে অতীতে সংবাদমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। এরশাদের সঙ্গে তার বিবাহ ও পরবর্তী পারিবারিক ঘটনাবলিও বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় আসে।

গ্রেপ্তারের পর তাকে গুলশান থানায় নেওয়া হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। পরে বুধবার সকালে পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করার জন্য নিয়ে যায়। আদালতে তার পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

আইনজীবীরা বলছেন, কোনো মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেটি কার্যকর করতে পারে। গ্রেপ্তারের পর সংশ্লিষ্ট আদালতে তাকে হাজির করা হয় এবং আদালতের আদেশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিদিশা সিদ্দিকের ক্ষেত্রেও একই আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

মামলাটি ২০০৮ সালে দায়ের হওয়ায় এর বিচারিক প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় ধরে চলেছে। অভিযোগ দায়ের থেকে শুরু করে সাক্ষ্যগ্রহণ, শুনানি এবং রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে মামলাটি এগিয়েছে। মে মাসে সাজা ঘোষণার পর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

বিদিশাকে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে মামলার অভিযোগ, আদালতের রায় এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া আদালতের নথি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই পরিচালিত হবে।

এদিকে আদালতে পাঠানোর পর বিদিশা সিদ্দিকের পরবর্তী আইনি অবস্থান আদালতের আদেশের ওপর নির্ভর করবে। তিনি জামিনের আবেদন করবেন কি না, আদালত এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত দেবেন এবং সাজা কার্যকরের পরবর্তী প্রক্রিয়া কী হবে—এসব বিষয় আদালতের শুনানির পর স্পষ্ট হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের মাধ্যমে পুলিশ তার দায়িত্ব পালন করেছে। এখন মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এগিয়ে যাবে।

সব মিলিয়ে ২০০৮ সালে দায়ের করা প্রতারণার মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ড পাওয়ার পর আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় বিদিশা সিদ্দিককে গ্রেপ্তার এবং আদালতে পাঠানোর ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। মঙ্গলবার রাতে গুলশানের একটি রেস্টুরেন্ট থেকে গ্রেপ্তারের পর বুধবার সকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। এখন তার পরবর্তী আইনগত সিদ্ধান্ত আদালতের আদেশের ওপর নির্ভর করছে।