Loading...

  • 26 Aug, 2026
সর্বশেষ

বিরোধী দলের ছায়া সরকার থেকেও এনসিপি বাদ: রাশেদ খাঁন

বিরোধী দলের ছায়া সরকার থেকেও এনসিপি বাদ: রাশেদ খাঁন

জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বিরোধী দলের ছায়া সরকার থেকে বাদ পড়ার মতোই প্রকৃত সরকার থেকেও বাদ থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। বুধবার (২৬ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জামায়াত ও এনসিপিকে ঘিরে রাজনৈতিক সম্পর্ক, ছায়া সরকার এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন।

রাশেদ খাঁন তার পোস্টের শুরুতেই লেখেন, ‘বিরোধী দলের ছায়া সরকার থেকে এনসিপি আউট! জামায়াত কখনো ক্ষমতায় গেলে প্রকৃত সরকার থেকেও এভাবেই এনসিপি আউট থাকবে।’ তার এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি ছায়া সরকারে এনসিপির অবস্থান এবং ভবিষ্যতে জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দলটির সম্ভাব্য রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নিজের মত তুলে ধরেন।

পোস্টে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, সাংগঠনিক সক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও এনসিপিকে একাধিক আসন ও প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয় দেওয়ার পেছনে জামায়াতের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। তার অভিযোগ, এর মাধ্যমে ১৯৭১ সালের অপরাধের দায় থেকে জামায়াত নিজেদের মুক্ত করার চেষ্টা করেছে।

তিনি বলেন, ‘শাক দিয়ে যেমন মাছ ঢাকা যায় না, এনসিপিকে দিয়ে ৭১-এর গণহত্যার দায় থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে না।’ রাশেদ খাঁনের দাবি, জামায়াত যতদিন রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকবে, ততদিন তাদের ১৯৭১ সালের গণহত্যার দায়ের প্রসঙ্গও আলোচনায় থাকবে।

একই পোস্টে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেও ২০২৪ সালের গণহত্যার দায়ের অভিযোগ তোলেন রাশেদ খাঁন। তিনি মন্তব্য করেন, আওয়ামী লীগকেও ২০২৪ সালের গণহত্যার দায় নিয়ে পালিয়ে থাকতে হচ্ছে। তবে এসব বক্তব্য রাজনৈতিক অভিযোগ ও মন্তব্য হিসেবে এসেছে; এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর বক্তব্য আলাদাভাবে বিবেচ্য।

ছায়া সরকার গঠনকে কেন্দ্র করে জামায়াতের নেতাদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। তার মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণা এবং বিভিন্ন জরিপে ক্ষমতায় যাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকার ধারণার কারণে জামায়াতের নেতাদের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, ছায়া সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে তাদের সেই প্রত্যাশার কিছুটা প্রতিফলন ঘটেছে।

তিনি বলেন, ছায়া সরকার গঠনের পর জামায়াতের নেতাদের মধ্যে দায়িত্বশীলতার মানসিকতা তৈরি হতে পারে। নির্বাচনে ক্ষমতায় যেতে না পারার হতাশা থেকে রাজনৈতিক বক্তব্যে যে হিংসা বা বিদ্বেষ দেখা যায়, সেটিও কমে আসতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

রাশেদ খাঁন আরও বলেন, বিরোধী দলের ছায়া সরকার যদি কার্যকরভাবে কাজ করে, তাহলে তারা সরকারের বিকল্প নীতি ও কর্মপরিকল্পনা প্রস্তাব করতে পারে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজে সরকারের জন্যও বিকল্প চিন্তা ও নীতিগত প্রস্তাব তৈরি হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

তবে ছায়া সরকারের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনার জায়গাও তুলে ধরেছেন তিনি। ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হামিদুর রহমান আজাদের বিরুদ্ধে গুমের বিষয় নিয়ে ‘মিথ্যাচার ও অপপ্রচার’ চালানোর অভিযোগ তোলেন রাশেদ খাঁন। তার ভাষ্য, এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে জনগণ ছায়া সরকারকে ‘গুজব সরকার’ এবং এর সদস্যদের ‘গুজব মন্ত্রী’ হিসেবে অভিহিত করতে শুরু করতে পারে।

রাশেদ খাঁন তার পোস্টে ছায়া মন্ত্রিসভায় নারী প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর ‘বিপ্লবী’ হিসেবে আবির্ভূত হওয়া নারী নেতৃত্বের একজন প্রতিনিধিকে ছায়া সরকারে রাখার সুযোগ ছিল।

এ প্রসঙ্গে তিনি মারদিয়া মমতাজের নাম উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন, জামায়াতে ইসলামী ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে কোনো নারীকে মন্ত্রিত্বে দায়িত্ব দেবে কি না। এর মাধ্যমে তিনি জামায়াতের রাজনৈতিক কাঠামোতে নারী নেতৃত্ব ও নারীদের অংশগ্রহণের বিষয়টি সামনে আনেন।

এ ছাড়া জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বিষয়টিও তার বক্তব্যে উঠে আসে। রাশেদ খাঁন দাবি করেন, জুলাই জাতীয় সনদ লঙ্ঘন করে জামায়াত কোনো নারীকে মনোনয়ন দেয়নি। অন্যদিকে বিএনপি নির্বাচনের আগেই নারী প্রার্থী দেওয়ার মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, সরকারে দায়িত্ব পাওয়ার পরও বিএনপি জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই কাজ করছে। রাজনৈতিক দলগুলোর নারী প্রতিনিধিত্ব এবং নির্বাচনে নারী প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টিকে তিনি এ প্রসঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করেন।

রাশেদ খাঁনের বক্তব্যে মূলত জামায়াত, এনসিপি ও বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান এবং সম্ভাব্য ক্ষমতার কাঠামো নিয়ে তার মূল্যায়ন উঠে এসেছে। একই সঙ্গে তিনি জামায়াতের ১৯৭১ সালের ভূমিকা, এনসিপির সঙ্গে দলটির রাজনৈতিক সম্পর্ক, ছায়া সরকারের কার্যক্রম এবং নারী প্রতিনিধিত্বের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

তার বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্ভাব্য নির্বাচন, দলগুলোর জোট, প্রার্থী সমন্বয় এবং ভবিষ্যৎ সরকার কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে। ছায়া সরকার গঠনের বিষয়টিও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা তৈরি করেছে। ফলে রাশেদ খাঁনের ফেসবুক পোস্টটি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিতে পারে।

তবে তার পোস্টে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ ও রাজনৈতিক মূল্যায়ন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর নিজস্ব বক্তব্যের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের অপরাধ, ২০২৪ সালের সহিংসতা এবং জুলাই জাতীয় সনদ লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্য বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, রাশেদ খাঁনের ফেসবুক পোস্টে জামায়াতের সম্ভাব্য সরকার, এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান, ছায়া সরকারের কার্যক্রম, নারী প্রতিনিধিত্ব এবং ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের রাজনৈতিক দায় নিয়ে একাধিক মন্তব্য উঠে এসেছে। তার বক্তব্যে যেমন জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তেমনি ছায়া সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জবাবদিহি, নারী নেতৃত্ব এবং জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বিষয়গুলো সামনে এনেছেন তিনি।