Loading...

  • 26 Aug, 2026
সর্বশেষ

ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে বুধবার (২৬ আগস্ট) সব ধরনের বাণিজ্যিক আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে কাস্টমস ও বন্দরের অন্যান্য কার্যক্রমও বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বৈধ পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক রয়েছে। সরকারি ছুটি শেষে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বন্দর দিয়ে আবারও পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুর সবুর জানান, সরকারি ছুটির কারণে বুধবার বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। ছুটির দিন শেষ হলে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কাস্টমস ও বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। ফলে একদিনের জন্য পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বিরতি তৈরি হয়েছে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন জানান, সরকারি ছুটির কারণে আমদানি-রপ্তানি, কাস্টমসসহ বন্দরের সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পুনরায় পণ্য আমদানি-রপ্তানি শুরু হবে। তবে এর মধ্যে বন্দরে থাকা পণ্য খালাসের পর খালি ট্রাকগুলো নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যেতে পারবে।

অন্যদিকে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের জন্য বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন খোলা রয়েছে। বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস হোসেন খান জানান, পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বৈধ পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে চিকিৎসা, ব্যবসা, শিক্ষা, পর্যটন ও অন্যান্য প্রয়োজনের যাত্রীরা নিয়মিত ইমিগ্রেশন কার্যক্রমের মাধ্যমে দুই দেশে যাতায়াত করতে পারছেন।

বেনাপোল স্থলবন্দর বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের স্থলবাণিজ্যের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার। প্রতিদিন এই বন্দর দিয়ে বিপুল পরিমাণ পণ্য দুই দেশের মধ্যে আমদানি ও রপ্তানি হয়। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০০টি ট্রাকে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে। এর মধ্যে শিল্পের কাঁচামাল, খাদ্যপণ্য, যন্ত্রপাতি, বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক পণ্যসহ নানা ধরনের সামগ্রী রয়েছে।

সরকারি ছুটির কারণে একদিনের জন্য পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় বন্দরে পণ্য ওঠানামা ও কাস্টমসের কার্যক্রমও স্থগিত রয়েছে। তবে ছুটি শেষে কার্যক্রম পুনরায় শুরু হলে আটকে থাকা পণ্যসহ নিয়মিত পণ্য পরিবহন আবারও সচল হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বেনাপোল বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণে আমদানি-রপ্তানিকারক, সিএন্ডএফ এজেন্ট, পরিবহন শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের নিয়মিত কার্যক্রমেও সাময়িক বিরতি এসেছে। বিশেষ করে যেসব পণ্য দ্রুত পরিবহন প্রয়োজন, সেসব পণ্যের ক্ষেত্রে একদিনের বিরতির কারণে সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে।

তবে সরকারি ছুটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো আগে থেকেই কার্যক্রম বন্ধ রাখার বিষয়টি জানিয়ে দেয়। ফলে আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা ছুটির সময়সূচি অনুযায়ী নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

বেনাপোল দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে শুধু পণ্য বাণিজ্যই নয়, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসা, ব্যবসা ও অন্যান্য প্রয়োজনে প্রতিদিন দেড় হাজারের বেশি পাসপোর্টধারী যাত্রী এই চেকপোস্ট ব্যবহার করেন। বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও ইমিগ্রেশন চালু থাকায় এসব যাত্রীর সীমান্ত পারাপারে বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন তৈরি হয়নি।

বেনাপোল বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব পেয়ে থাকে। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি থেকে প্রতিদিন সরকারের প্রায় ১০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়। সরকারি ছুটির কারণে একদিন বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ওই দিনের নিয়মিত রাজস্ব আদায়ও স্বাভাবিকভাবেই কমে যাবে।

অন্যদিকে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াতের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক থাকায় এই অংশের রাজস্ব আদায় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি ছুটির কারণে নিয়মিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও এটি সাময়িক। ছুটি শেষ হওয়ার পর কাস্টমস, বন্দরের পণ্য খালাস, ট্রাক চলাচল এবং আমদানি-রপ্তানির অন্যান্য কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়ে যাবে। ব্যবসায়ীদেরও সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ-ভারত স্থলবাণিজ্যের ক্ষেত্রে বেনাপোলের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। দেশের বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ভারত থেকে আমদানি করা পণ্য এই বন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করে। একইভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন রপ্তানি পণ্যও এই পথ দিয়ে ভারতে যায়। ফলে বন্দরটির স্বাভাবিক কার্যক্রম দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও রাজস্ব ব্যবস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

এদিকে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সরকারি ছুটিতে বন্দর বন্ধ থাকলেও সীমান্তের নিরাপত্তা ও ইমিগ্রেশন কার্যক্রম নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। পাসপোর্টধারী যাত্রীদের কাগজপত্র যাচাই ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা স্বাভাবিক নিয়মেই সম্পন্ন হচ্ছে।

সব মিলিয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বুধবার বেনাপোল স্থলবন্দরে একদিনের জন্য আমদানি-রপ্তানি ও কাস্টমস কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে যাত্রী পারাপার চালু থাকায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সরকারি ছুটি শেষে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বেনাপোল বন্দরে পণ্য আমদানি-রপ্তানি ও কাস্টমসের নিয়মিত কার্যক্রম আবারও শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।