Loading...

  • 26 Aug, 2026
সর্বশেষ

পুলিশ ডাকার পরও নিরাপত্তাহীনতায় বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ কোচ

পুলিশ ডাকার পরও নিরাপত্তাহীনতায় বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ কোচ

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলের প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্স আবারও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলেছেন। সহকারী কোচের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে টিম হোটেলে পুলিশ ডাকতে হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই ব্রিটিশ কোচ।

জেরার্ড জোন্সের দাবি, কর্মক্ষেত্রে তার ওপর শারীরিক হামলা হয়েছে এবং আত্মরক্ষার প্রয়োজনেই তাকে পুলিশের সহায়তা নিতে হয়েছে। ঘটনার পর তিনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে (বাফুফে) বিষয়টি জানিয়েছেন এবং নিজের শরীরে পাওয়া আঘাতের ছবিও পাঠিয়েছেন বলে জানান। তবে তার অভিযোগ, বাফুফের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সাহায্য বা সমর্থন পাননি।

ভিডিও বার্তায় জোন্স বলেন, তিনি এখনো নিজেকে নিরাপদ মনে করছেন না। বিদেশে কাজ করতে এসে বারবার নিরাপত্তার জন্য সাহায্য চাইতে হচ্ছে বলেও হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিজের দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ারে কর্মক্ষেত্রে এমন শারীরিক হামলার অভিজ্ঞতা আগে কখনো হয়নি। এমনকি নিরাপত্তার জন্য পুলিশ বা নিজ দেশের দূতাবাসের সহায়তাও তার আগে নিতে হয়নি বলে জানান তিনি।

এদিকে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের গোলকিপিং কোচের সঙ্গে তার সম্পর্ক খারাপ—এমন খবরও সরাসরি অস্বীকার করেছেন জেরার্ড জোন্স। তার দাবি, গোলকিপিং কোচের সঙ্গে তার সম্পর্ক বরং ভালো এবং তাদের মধ্যে নিয়মিত বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগ রয়েছে। তারা একে অপরের কক্ষে যাতায়াত করেন, হাসি-ঠাট্টা করেন এবং ম্যাচের কৌশল নিয়েও পরস্পরের সঙ্গে আলোচনা করেন বলে জানান তিনি।

জোন্স আরও অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। তার মতে, এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য দলের পরিবেশ এবং তার কর্মক্ষেত্রের পরিস্থিতিকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে। ঘটনার পেছনে কারও ব্যক্তিগত স্বার্থ থাকতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের সামনে এএফসি প্রতিযোগিতায় ভালো করার সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে জোন্স প্রশ্ন তোলেন, গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিযোগিতার আগে কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। তার মতে, দলের প্রস্তুতি ও পারফরম্যান্সের দিকে মনোযোগ দেওয়ার সময় অভ্যন্তরীণ বিরোধ বা নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ তৈরি হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত।

কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে একজন বিদেশি কোচের এমন অভিযোগ বাংলাদেশ ফুটবলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে জাতীয় দলের বয়সভিত্তিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন প্রধান কোচকে কেন পুলিশি সহায়তা নিতে হলো এবং অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জেরার্ড জোন্সের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি বাফুফেকে ঘটনাটি জানিয়েছেন এবং সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছিলেন। তবে তার অভিযোগ, এখন পর্যন্ত তিনি প্রত্যাশিত সমর্থন পাননি। একই সঙ্গে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা প্রকাশ করে পরিস্থিতির দ্রুত সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এ ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জাতীয় দলের ক্যাম্প বা টিম হোটেলে কর্মরত কোচ ও খেলোয়াড়দের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা দলের প্রস্তুতি ও পারফরম্যান্সের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। আগামী এএফসি প্রতিযোগিতার আগে এ ধরনের পরিস্থিতির দ্রুত ও নিরপেক্ষ সমাধান চান সংশ্লিষ্টরা।