Loading...

  • 26 Aug, 2026
সর্বশেষ

মেয়েদের সর্বজনীন উপবৃত্তি পুনর্বহালের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

মেয়েদের সর্বজনীন উপবৃত্তি পুনর্বহালের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত ছাত্রীদের জন্য সর্বজনীন উপবৃত্তি কর্মসূচি পুনর্বহাল করা যায় কি না, তা যাচাই করে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের উদ্যোগে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন বৈঠকের বিষয়টি জানান।

বৈঠকে মেয়েদের শিক্ষায় আর্থিক সহায়তা আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সর্বজনীন উপবৃত্তি পুনর্বহাল করা হলে সরকারের সম্ভাব্য ব্যয় কত হতে পারে, কতসংখ্যক শিক্ষার্থী এর আওতায় আসবে, কীভাবে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হবে এবং এর মাধ্যমে শিক্ষাক্ষেত্রে ও সমাজে কী ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে—এসব বিষয় বিশ্লেষণ করে একটি সুস্পষ্ট প্রস্তাব তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের চলমান বিভিন্ন কার্যক্রমও বৈঠকে তুলে ধরা হয়। শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে তাদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা, ঝরে পড়া কমানো এবং দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে ট্রাস্টের ভূমিকা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত অবহিত করা হয়।

বৈঠকে মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেদের শিক্ষায় উৎসাহিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ছেলেদের জন্য মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে উপবৃত্তি দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মতবিনিময় হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষায় আগ্রহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে বলে বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার আমলে মেয়েদের জন্য চালু হওয়া সর্বজনীন উপবৃত্তি কর্মসূচির প্রভাব ও অর্জন নিয়েও আলোচনা হয়। ওই কর্মসূচির ফলে মেয়েদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি, শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা এবং বাল্যবিবাহ নিরুৎসাহিত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছিল বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।

মেয়েদের শিক্ষায় উপবৃত্তি কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে সামাজিক ও শিক্ষাগত অগ্রগতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের মেয়েদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা এবং মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষার পর্যায়ে তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে আর্থিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ কারণে নতুন করে সর্বজনীন উপবৃত্তি চালুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগকে শিক্ষা খাতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৈঠকে শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষার মানোন্নয়নের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার বিষয়টি সমানভাবে বিবেচনা করার ওপর জোর দেওয়া হয়। বিশেষ করে বিদ্যালয় পর্যায়ে মিড-ডে মিল কার্যক্রম কীভাবে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের পুষ্টিমান, নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। কোনোভাবেই খাবারের মানের সঙ্গে আপস না করার নির্দেশও দেন তিনি। শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত না করে শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়—এমন বিবেচনায় বিদ্যালয়ভিত্তিক খাদ্য কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা করা হয়।

মিড-ডে মিল কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ব্যয়, ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা, স্থানীয় পর্যায়ের অংশগ্রহণ এবং খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য দুটি বিকল্প পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়। কোন পদ্ধতি বেশি কার্যকর, ব্যয়সাশ্রয়ী এবং বাস্তবায়নযোগ্য হবে, তা যাচাই করার জন্য পৃথক দুটি জেলায় দুটি পদ্ধতির পাইলট প্রকল্প চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে কর্মসূচির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া, ব্যয়, খাদ্যের মান, স্থানীয় অংশগ্রহণ এবং ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা পর্যালোচনা করা হবে। পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়নের ফলাফল বিশ্লেষণ করে পরবর্তী সময়ে সারাদেশে মিড-ডে মিল কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের মাধ্যমে উপবৃত্তি কার্যক্রম এবং বিদ্যালয়ে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ—দুটি উদ্যোগই শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানো এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের মাধ্যমে নারীশিক্ষার হার বাড়ানোর পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও নারীর ক্ষমতায়নে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বজনীন উপবৃত্তি পুনর্বহালের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশের মাধ্যমে সরকার আপাতত কর্মসূচিটি পুনরায় চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিয়ে এর আর্থিক, সামাজিক ও শিক্ষাগত প্রভাব বিশ্লেষণের পথে এগোচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মূল্যায়ন ও প্রস্তাবের ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে কর্মসূচিটি পুনর্বহালের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।