Loading...

  • 26 Aug, 2026
সর্বশেষ

এক রাতেই মতিঝিল আইডিয়ালের ৪৬ শিক্ষক বদলি

এক রাতেই মতিঝিল আইডিয়ালের ৪৬ শিক্ষক বদলি

রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল শাখা থেকে একসঙ্গে ৪৬ শিক্ষককে বনশ্রী ও মুগদা শাখায় বদলি করা হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) মধ্যরাতে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সম্মতিক্রমে এসব শিক্ষকের বদলির আদেশ দেওয়া হয়। আকস্মিকভাবে এতসংখ্যক শিক্ষককে একই সঙ্গে বদলি করায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক লাল মোহাম্মদ এই সিদ্ধান্তকে প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অনিয়ম ও দুর্নীতির যে অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর মূল উৎপাটনের লক্ষ্যেই কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বদলি হওয়া শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে মতিঝিলের মূল শাখায় কর্মরত ছিলেন। তাদের অনেকেই টানা পাঁচ থেকে সাত বছর একই শাখায় দায়িত্ব পালন করেছেন।

শিক্ষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ করেই ৪৬ শিক্ষকের বদলির আদেশ জারি করা হয়। এত অল্প সময়ের মধ্যে এবং রাতের বেলায় বদলির আদেশ দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে অনেক শিক্ষক বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। বদলি হওয়া শিক্ষকদের একটি অংশ সোমবার (২৪ আগস্ট) সচিবালয়ে গিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন বলেও জানা গেছে।

বদলি হওয়া শিক্ষকদের বনশ্রী ও মুগদা শাখায় দায়িত্ব পালনের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে হঠাৎ করে একসঙ্গে এত শিক্ষককে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের পেছনে কী ধরনের প্রশাসনিক মূল্যায়ন কাজ করেছে, তা নিয়ে শিক্ষক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ এটিকে নিয়মিত প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে দেখছে এবং দীর্ঘদিন একই শাখায় দায়িত্ব পালন করা শিক্ষকদের পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছে।

শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বদলি প্রক্রিয়ার গোপনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে বদলির তথ্য প্রকাশের আগেই অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বদলির তালিকা শেয়ার করেন। ফলে অফিসিয়ালভাবে প্রকাশের আগেই কীভাবে এত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের তথ্য বাইরে চলে গেল, তা নিয়েও শিক্ষকরা প্রশ্ন তুলেছেন।

একসঙ্গে ৪৬ শিক্ষককে বদলির ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষক বণ্টন এবং শাখাভিত্তিক জনবল কাঠামো নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এতসংখ্যক শিক্ষক এক শাখা থেকে অন্য শাখায় চলে যাওয়ার ফলে মতিঝিলের মূল শাখার পাঠদান কার্যক্রমে কী ধরনের প্রভাব পড়বে, সেটিও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। একইভাবে বনশ্রী ও মুগদা শাখায় নতুন শিক্ষক যুক্ত হওয়ার ফলে সেখানকার শিক্ষা কার্যক্রমে কী পরিবর্তন আসবে, সেটিও পর্যবেক্ষণের বিষয়।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ রাজধানীর অন্যতম বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির মোট তিনটি শাখা রয়েছে। এগুলো হলো—মতিঝিলের মূল শাখা, বনশ্রী শাখা এবং মুগদা শাখা। তিন শাখা মিলিয়ে প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করে। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৭০০ শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। এ ছাড়া দুই শতাধিক কর্মচারী প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন প্রশাসনিক ও সহায়ক কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।

এমন একটি বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে ৪৬ শিক্ষককে বদলি করার সিদ্ধান্ত তাই শুধু প্রশাসনিক বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকছে না; এর সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত এবং শাখাভিত্তিক জনবল ব্যবস্থাপনার বিষয়ও জড়িয়ে রয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, দীর্ঘদিন একই শাখায় দায়িত্ব পালন করা শিক্ষকদের মধ্যে রোটেশন বা পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে বদলি হওয়া শিক্ষকদের মধ্যে যারা সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ফলে পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা হবে কি না, কিংবা বদলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও কোনো নির্দেশনা আসবে কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মতো বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক বদলি একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হলেও একই রাতে ৪৬ শিক্ষকের বদলির ঘটনা এটিকে ব্যতিক্রমী করে তুলেছে। প্রশাসনিক সংস্কার ও দুর্নীতি প্রতিরোধের যে যুক্তিতে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্তটি নিয়েছে, সেটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এর প্রভাব কতটা কার্যকর হয় এবং শিক্ষা কার্যক্রমে কোনো ধরনের সমস্যা তৈরি হয় কি না, তা সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হবে।