Loading...

  • 26 Aug, 2026
সর্বশেষ

অর্থবছরের প্রথম মাসে উন্নয়ন প্রকল্পে এক টাকাও খরচ করেনি ১০ মন্ত্রণালয়

অর্থবছরের প্রথম মাসে উন্নয়ন প্রকল্পে এক টাকাও খরচ করেনি ১০ মন্ত্রণালয়

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় কোনো অর্থ ব্যয় করতে পারেনি সরকারের ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। এসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য চলতি অর্থবছরে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও অর্থবছরের প্রথম মাস শেষে তাদের ব্যয়ের হিসাব শূন্য রয়েছে। ফলে অর্থবছরের শুরুতেই এডিপি বাস্তবায়নের সামগ্রিক চিত্রে ধীরগতি দেখা দিয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) এডিপি বাস্তবায়নের হালনাগাদ চিত্র প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে চলতি অর্থবছরের জুলাই মাস পর্যন্ত সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বরাদ্দ ও ব্যয়ের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

আইএমইডির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারের মোট এডিপির আকার ৩ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই শেষে ব্যয় হয়েছে মাত্র ২ হাজার ১২১ কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট বরাদ্দের মাত্র ০ দশমিক ৬৯ শতাংশ অর্থ জুলাই মাসে ব্যয় হয়েছে। এর ফলে অর্থবছরের প্রথম মাস শেষে এডিপি বাস্তবায়নের হার ১ শতাংশের নিচেই রয়েছে।

এডিপি বাস্তবায়নের এই হার আগের কয়েকটি অর্থবছরের তুলনায়ও কম। ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার ১ শতাংশের বেশি ছিল। তবে গত অর্থবছরের প্রথম মাসের সঙ্গে চলতি অর্থবছরের বাস্তবায়ন হার প্রায় একই পর্যায়ে রয়েছে।

জুলাই মাসে উন্নয়ন প্রকল্পের বিপরীতে কোনো অর্থ ব্যয় করতে না পারা ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ হলো—শিল্প মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, সেতু বিভাগ এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ।

এসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অনেকগুলোর জন্য চলতি অর্থবছরে বিপুল পরিমাণ উন্নয়ন বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু জুলাই মাস শেষে সেই বরাদ্দ থেকে একটি টাকাও ব্যয়ের হিসাবে দেখানো হয়নি।

এর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য চলতি অর্থবছরে ৬ হাজার ১৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের জন্য বরাদ্দ ৫ হাজার ৪৯৯ কোটি ১২ লাখ টাকা। সেতু বিভাগের উন্নয়ন বরাদ্দ ২ হাজার ৫৯৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের জন্য রয়েছে ১ হাজার ৮৬৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা।

এ ছাড়া ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ রয়েছে ১ হাজার ৩৭০ কোটি ৩ লাখ টাকা। শিল্প মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ ১ হাজার ২৫৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের জন্য ১ হাজার ১৪৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এত বড় বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও জুলাইয়ে এসব খাত থেকে কোনো অর্থ ব্যয় হয়নি।

অন্যদিকে অর্থবছরের প্রথম মাসে এডিপি বাস্তবায়নে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। চলতি অর্থবছরে এ বিভাগের উন্নয়ন বরাদ্দ ৩৩ হাজার ৩৭৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এর মধ্যে জুলাই মাসেই ৯৫১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জুলাইয়ে ২৬৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা এবং বিদ্যুৎ বিভাগ ২০৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ব্যয় করেছে ১৯২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যয় হয়েছে ১৬৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ব্যয় ৮১ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

শতাংশের হিসাবে জুলাইয়ে এডিপি বাস্তবায়নে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন। সংস্থাটির জন্য চলতি অর্থবছরে ২৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকা উন্নয়ন বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে জুলাই মাসে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের প্রায় ৭ দশমিক ৫২ শতাংশ।

এ ছাড়া সংসদ বিষয়ক সচিবালয় জুলাইয়ে তার উন্নয়ন বরাদ্দের প্রায় ৬ দশমিক ৭ শতাংশ অর্থ ব্যয় করেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ব্যয় করেছে প্রায় সাড়ে ৫ শতাংশ। দুর্নীতি দমন কমিশন তাদের উন্নয়ন বরাদ্দের প্রায় সাড়ে ৪ শতাংশ অর্থ ব্যয় করেছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ও বরাদ্দের ৫ শতাংশের বেশি অর্থ ব্যয় করেছে।

তবে অর্থবছরের প্রথম মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার কম থাকাকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন না পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার। তিনি জানিয়েছেন, অর্থবছরের শুরুতে প্রকল্পের কার্যাদেশ, ক্রয় পরিকল্পনা ও টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই সময় চলে যায়। সাধারণত জুলাই-আগস্টে এসব প্রস্তুতিমূলক কাজ চলে এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অক্টোবর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে সেপ্টেম্বর থেকে প্রকল্পের প্রকৃত ব্যয় শুরু হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অর্থবছরের শুরুতে ধীরগতি থাকলেও পরবর্তী মাসগুলোতে ব্যয়ের গতি বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। তবে বিপুল বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও কোনো কোনো মন্ত্রণালয় ও বিভাগ যদি দীর্ঘ সময় ধরে অর্থ ব্যয় করতে না পারে, তাহলে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব এবং অর্থবছরের শেষ দিকে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।