Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

ভারত সঠিক পথে না এলে সরাসরি জবাব দেবে পাকিস্তান

ভারত সঠিক পথে না এলে সরাসরি জবাব দেবে পাকিস্তান

পাকিস্তানের পানির প্রতিটি ফোঁটাকে ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমারেখা হিসেবে উল্লেখ করে ভারতকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তিনি বলেছেন, ভারত সঠিক পথে ফিরে না এলে পাকিস্তান সরাসরি জবাব দিতে প্রস্তুত।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে রাজধানী ইসলামাবাদে ‘ইয়াদগার-ই-ফাতাহ’ বা বিজয় স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সামরিক বাহিনীর প্রধান (সিডিএফ) ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির যৌথভাবে স্মৃতিস্তম্ভটির উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে শেহবাজ শরিফ বলেন, পাকিস্তান এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা চায়। তবে তাদের শান্তির আকাঙ্ক্ষাকে কোনোভাবেই দুর্বলতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। পাকিস্তানের পানির অধিকারকে দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন, এ বিষয়ে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলে পাকিস্তান তার জবাব দেবে।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের সশস্ত্র বাহিনীর সাফল্যে পুরো জাতির মাথা উঁচু হয়েছে। ‘মারকা-ই-হক’ নামের সামরিক অভিযানে সফলতার জন্য ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও তাঁর সহকর্মীদের অভিনন্দন জানান তিনি। মাত্র আট মাসের মধ্যে স্মৃতিস্তম্ভটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন শেহবাজ।

ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, নতুন কোনো সংঘাত এড়াতে তাঁর দেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নিরসনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধবিরতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তার প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন শেহবাজ। তিনি ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে তুরস্কের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালিত না হয়, সে বিষয়ে কাবুল প্রশাসনের প্রতি সতর্কবার্তা দেন।

কাশ্মীর ও ফিলিস্তিন ইস্যুতেও পাকিস্তানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। ফিলিস্তিনিদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে পাকিস্তানের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে জানান শেহবাজ। একই সঙ্গে কাশ্মীরিদের আত্মত্যাগও বৃথা যাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি প্রসঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঐক্যবদ্ধ জাতিকে কোনো পরাশক্তি পরাজিত করতে পারে না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য যেন শত্রুতায় পরিণত না হয়, সেদিকেও সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে বিজয়ের স্মারক হিসেবে ‘ইয়াদগার-ই-ফাতাহ’ নির্মাণ করা হয়েছে। ইসলামাবাদের ভাষ্যমতে, জম্মু ও কাশ্মীরে একটি হামলার পর ৬ ও ৭ মে ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তানে হামলা চালালে পাকিস্তান পাল্টা সামরিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে। কয়েক দিন ধরে চলা ওই সংঘাত ১০ মে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শেষ হয়।

তবে ওই সংঘাতে দুই দেশের সামরিক ক্ষয়ক্ষতি ও যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের দাবির মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। পাকিস্তান ভারতীয় কয়েকটি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করলেও এসব দাবির সবগুলো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।