ঢাকার বনানী থানায় দায়ের করা অস্ত্র আইনের মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে গেছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। রোববার (২৩ আগস্ট) আনিসুল হকের আইনজীবীর সময় চেয়ে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মঈন উদ্দিন চৌধুরী নতুন এই তারিখ নির্ধারণ করেন।
আদালতে আনিসুল হকের পক্ষে সময়ের আবেদন করেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার সুমন হোসেন। তিনি জানান, মামলাসংক্রান্ত কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এখনো সংগ্রহ করা বাকি রয়েছে। এসব নথি সংগ্রহের জন্য আদালতের কাছে সময় চাওয়া হয়েছিল। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ২৪ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
আইনজীবী আরও দাবি করেন, যে অস্ত্রকে কেন্দ্র করে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে, সেটি আনিসুল হকের বৈধ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় বৈধতার কাগজপত্র আগামী ধার্য তারিখে আদালতে উপস্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি। মামলার অভিযোগের বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনে এসব নথি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
শুনানির সময় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণের পর তাকে আবার কারাগারে নেওয়া হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে ১৩ আগস্ট আনিসুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন হত্যা ও হত্যাচেষ্টার মামলাসহ একাধিক মামলায় রিমান্ড নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
অস্ত্র মামলাটি দায়ের করা হয় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৪ মে বনানী থানায় মামলাটি করেন থানার এসআই মো. জানে আলম দুলাল। পরে মামলাটির তদন্ত শেষ করে বনানী থানা পুলিশ আনিসুল হককে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বনানী থানার অধিক্ষেত্রের মধ্যে আনিসুল হকের নামে একটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল ছিল। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ইস্যু করা সব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত করে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অস্ত্র নির্ধারিত সময়ের মধ্যে থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অস্ত্র জমা দেওয়ার কথা ছিল। তবে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আনিসুল হক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তার লাইসেন্সকৃত অস্ত্র থানায় জমা দেননি এবং এ বিষয়ে থানাকেও অবহিত করেননি।
মামলার বিবরণীতে আরও উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আনিসুল হককে পাননি এবং অস্ত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে কোনো তথ্যও পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি তিনি ওই অস্ত্রের জন্য গুলি কিনেছেন—এমন তথ্যও তদন্তে পাওয়া যায়নি বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আনিসুল হকের বিরুদ্ধে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯(১) ধারায় অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযোগপত্র দেওয়ার পর এখন আদালতে অভিযোগ গঠনের শুনানি পর্যায়ে রয়েছে মামলাটি।
তবে আসামিপক্ষের দাবি, মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা পিস্তলটি আনিসুল হকের বৈধ অস্ত্র এবং এর বৈধতার পক্ষে প্রয়োজনীয় নথিপত্র রয়েছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর শুনানিতে এসব নথি আদালতে উপস্থাপনের কথা জানিয়েছেন তার আইনজীবী। ফলে ওই দিন আদালত অভিযোগ গঠনের বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম কীভাবে এগিয়ে নেয়, সেদিকে নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।