Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

২০৩১ সালের মধ্যে ৭ বিলিয়ন ডলারের অলংকার রপ্তানির লক্ষ্য বাজুসের

২০৩১ সালের মধ্যে ৭ বিলিয়ন ডলারের অলংকার রপ্তানির লক্ষ্য বাজুসের

দেশের জুয়েলারি শিল্পকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও রপ্তানিমুখী খাতে রূপান্তরের মাধ্যমে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে সোনা ও হীরার অলংকার রপ্তানি করে ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করতে চায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। একই সঙ্গে জুয়েলারি খাতকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতে পরিণত করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীতে আয়োজিত ‘বাজুস জুয়েলারি ফ্যাশন কার্নিভাল-২০২৬’-এ সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট এনামুল হক খান লিখিত বক্তব্যে এ লক্ষ্যের কথা জানান। অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি ও কূটনীতিকরা।

বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর সংগঠনটি দেশের প্রায় ৪০ হাজার জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান এবং প্রায় চার লাখ কারিগরের প্রতিনিধিত্ব করে আসছে। এ খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২৮ লাখ মানুষের জীবিকা জড়িত। ফলে জুয়েলারি শিল্পের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ দেশের কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছে সংগঠনটি।

লিখিত বক্তব্যে বাজুস ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে জুয়েলারি খাতে কর ও ভ্যাটে রেয়াতি সুবিধা দেওয়ায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। তবে সংগঠনটির মতে, শুধু অভ্যন্তরীণ বাজারের ওপর নির্ভর না করে এখন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক ও বিশ্বমানের দেশীয় অলংকার রপ্তানির দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

বাজুস মনে করে, জুয়েলারি শিল্পের বিকাশের পথে অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা হলো নীতিমালার অস্পষ্টতা। সংগঠনটির প্রস্তাব অনুযায়ী, বৈষম্যহীন ও ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন করে অলংকার আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করা গেলে দেশের বাজারে প্রতি ভরি অলংকারের দাম অন্তত ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমানো সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে ‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮ (সংশোধিত)-২০২৬’ বাস্তবায়ন করা হলে সরকার এ খাত থেকে বছরে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত রাজস্ব পেতে পারে বলে বাজুসের প্রত্যাশা।

দেশে থাকা অপ্রদর্শিত সোনাকে এককালীন নির্ধারিত ফি দিয়ে বৈধভাবে প্রদর্শনের সুযোগ দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি। বাজুসের হিসাব অনুযায়ী, এ ধরনের সুযোগ দেওয়া হলে সরকার এককালীন প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে পারে। পাশাপাশি দেশের মোট সোনা মজুতের একটি ডিজিটাল তথ্যভান্ডার তৈরি করা সম্ভব হবে, যা ভবিষ্যতে জুয়েলারি খাতের নীতিনির্ধারণ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জুয়েলারি শিল্পে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ৫০০টি আধুনিক জুয়েলারি কারখানা স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাজুস। সংগঠনটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব কারখানা চালু হলে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের সরাসরি এবং আরও এক লাখ মানুষের পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে এ খাত অতিরিক্ত প্রায় ০.৫ শতাংশ অবদান রাখতে সক্ষম হবে বলে আশা করছে বাজুস।

এই শিল্পায়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রাজধানীর মধ্যে ১০ বিঘা জমিতে ‘স্বর্ণপল্লী’ নামে একটি বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। প্রস্তাবিত স্বর্ণপল্লীতে আধুনিক জুয়েলারি উৎপাদন কারখানার পাশাপাশি হীরা প্রক্রিয়াজাতকরণ ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশে মূল্য সংযোজন বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য উন্নতমানের অলংকার উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি করতে চায় বাজুস।

হীরা শিল্পের বিকাশেও নীতিগত সংস্কারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। ২০০৬ সালের অমসৃণ হীরা আমদানি-রপ্তানি (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা যুগোপযোগী করার পাশাপাশি হীরা আমদানির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শুল্ক কমিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বাজুসের মতে, আমদানি ব্যয় কমানো গেলে দেশে হীরা প্রক্রিয়াজাত ও অলংকার তৈরির শিল্প আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।

প্রস্তাবিত ‘স্বর্ণপল্লী’তে হীরা প্রক্রিয়াজাতকরণ ইউনিট স্থাপন করা হলে নতুন করে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে বাজুস। একই সঙ্গে ২০৩১ সালের মধ্যে বছরে প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের হীরার অলংকার রপ্তানির সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেছে সংগঠনটি।

বাজুসের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কার, আমদানি প্রক্রিয়া সহজীকরণ, আধুনিক উৎপাদন অবকাঠামো তৈরি, দক্ষ জনশক্তির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় অলংকারের ব্র্যান্ডিং নিশ্চিত করা গেলে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে মোট ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সোনা ও হীরার অলংকার রপ্তানি সম্ভব হতে পারে।

সংগঠনটি মনে করছে, এ লক্ষ্য অর্জিত হলে জুয়েলারি খাত দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎসে পরিণত হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় শিল্পের সম্প্রসারণ, দক্ষ কারিগরদের কর্মসংস্থান, নতুন কারখানা স্থাপন এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে এ খাতের অবদান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বাজুসের প্রত্যাশা, সরকারের সহযোগিতা ও কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের জুয়েলারি শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।