Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

ঢাকায় ফের বাড়ছে লোডশেডিং, দিনে-রাতে একাধিকবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট

ঢাকায় ফের বাড়ছে লোডশেডিং, দিনে-রাতে একাধিকবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট

রাজধানী ঢাকায় আবারও বেড়েছে লোডশেডিং। দিন ও রাতের বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। বিশেষ করে সন্ধ্যার পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হচ্ছে। ফলে এই সময়ে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের পরিমাণও বাড়ছে।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির তথ্য অনুযায়ী, ২২ আগস্ট সন্ধ্যার পিক আওয়ারে ঢাকা জোনে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৬ হাজার ৪৮৯ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে লোডশেডিং করতে হয়েছে ৫৯৯ মেগাওয়াট। এর আগের দিন ২১ আগস্ট একই সময়ে ঢাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৫ হাজার ৬৩৫ মেগাওয়াট এবং লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল ২১৪ মেগাওয়াট।

অর্থাৎ মাত্র এক দিনের ব্যবধানে ঢাকায় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে ৮৫৪ মেগাওয়াট। একই সময়ে লোডশেডিংয়ের পরিমাণও বেড়েছে ৩৮৫ মেগাওয়াট। এই পরিসংখ্যান রাজধানীর বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক চাপের বিষয়টি স্পষ্ট করে।

গত কয়েক দিনের তথ্য বিশ্লেষণ করলেও ঢাকার বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য ওঠানামার চিত্র পাওয়া যায়। ২০ আগস্ট সন্ধ্যার পিক আওয়ারে ঢাকা জোনে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৬ হাজার ২৫১ মেগাওয়াট। ওই সময় লোডশেডিং করা হয় ৫৫৪ মেগাওয়াট। এর আগের দিন ১৯ আগস্ট সন্ধ্যায় লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল ৬৪০ মেগাওয়াট, যা ১৮ থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত পাঁচ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ।

১৮ আগস্ট সন্ধ্যার পিক আওয়ারে ঢাকা জোনে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৬ হাজার ১৮৪ মেগাওয়াট। ওই সময়ে লোডশেডিং করতে হয়েছিল ১৫৪ মেগাওয়াট। অর্থাৎ মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে রাজধানীতে বিদ্যুতের চাহিদা ও লোডশেডিং—দুটিই উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে।

বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে গ্যাস সরবরাহ সংকট অন্যতম কারণ হতে পারে। দেশের বেশ কিছু গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রয়োজনীয় গ্যাস না পাওয়ায় তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে গেলে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করতে হয়।

বিশেষ করে সন্ধ্যার পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বেড়ে যায়। বাসাবাড়িতে আলো, ফ্যান, এসি, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলমান থাকায় এ সময় জাতীয় গ্রিডের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। উৎপাদন ও সরবরাহ সেই অনুপাতে বাড়ানো সম্ভব না হলে লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।

সম্প্রতি দেশজুড়ে গ্যাস সরবরাহের সংকট অব্যাহত থাকায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনেও এর প্রভাব পড়ছে। জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে না পারলে জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় ঘাটতি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। রাজধানীর মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এর প্রভাব দ্রুত দৃশ্যমান হয়।

ঢাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ। দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পাশাপাশি সন্ধ্যার সময় দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়ি, দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎনির্ভর জীবনযাত্রায় ঘন ঘন লোডশেডিং নগরবাসীর দৈনন্দিন কাজেও বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ উৎপাদনে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং চাহিদা অনুযায়ী গ্রিড ব্যবস্থাপনা উন্নত করা গেলে লোডশেডিংয়ের চাপ কমানো সম্ভব হতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজধানীর বিদ্যুৎ চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান কত দ্রুত কমানো যায়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। বিশেষ করে সন্ধ্যার পিক আওয়ারে লোডশেডিং কমিয়ে নগরবাসীকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।