দেশে বর্তমান গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের পেছনে বিগত ১৮ বছরের ব্যাপক লুটপাট, অব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনার ঘাটতিকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে জ্বালানি খাতে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহ শিশু কুঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজ আয়োজিত সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, বিগত সরকারের সময়ে দেশে নতুন গ্যাসকূপ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি নিম্নমানের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে একটি সংকটপূর্ণ অবস্থার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। তার দাবি, দীর্ঘদিনের এসব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রভাব এখন সাধারণ মানুষকে ভোগ করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকট শুধু গ্যাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাও জড়িত। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব, পর্যাপ্ত অনুসন্ধান না করা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে না তোলার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর ও টেকসই কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি। ফলে সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে পরামর্শ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে জ্বালানি সংকটের স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজছে বলে জানান তিনি।
সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি সংকটের কারণে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশের বিষয়টিও উল্লেখ করেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, জনগণের ভোগান্তির বিষয়টি স্বীকার করে সরকার যে দুঃখ প্রকাশ করেছে, অতীতে কোনো সরকার এমন নজির স্থাপন করেনি। জনগণের সমস্যা স্বীকার করে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়াকে তিনি সরকারের দায়িত্বশীলতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
রাশেদ খাঁনের বক্তব্যে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তাও উঠে আসে। তার মতে, বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে শুধু তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ বা গ্যাস সরবরাহ বাড়ালেই হবে না; একই সঙ্গে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, জ্বালানি অবকাঠামোর আধুনিকায়ন এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতি, শিল্প উৎপাদন ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ সরাসরি সম্পর্কিত। তাই জ্বালানি খাতকে রাজনৈতিক প্রভাব ও অনিয়মের বাইরে রেখে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিচালনা করা প্রয়োজন।
এর আগে ঝিনাইদহ শিশু কুঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজে রাশেদ খাঁনকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি ঝিনাইদহ সরকারি কেশবচন্দ্র কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে একটি বিশেষ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
মতবিনিময় সভায় শিক্ষা, তরুণদের ভূমিকা, দেশের চলমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন বিষয় আলোচনা হয়। এ সময় ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।
জ্বালানি সংকটের বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হচ্ছে নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। গ্যাসের ঘাটতি কমানো, বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানো এবং জ্বালানি আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রয়োজন রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হলেও এর বাস্তব ফলাফল নির্ভর করবে পরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়ন ও সংশ্লিষ্ট খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর।