বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ম্যাচ শেষে ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আনচেলত্তি বলেন, দলের মূল লক্ষ্য ছিল আগের ম্যাচের ইতিবাচক দিকগুলো ধরে রেখে আরও সংগঠিত ও কার্যকর ফুটবল খেলা। তার মতে, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিল শুধু তিন পয়েন্ট অর্জন করেনি, বরং পুরো ম্যাচজুড়ে নিজেদের পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে।
কোচের ভাষ্য অনুযায়ী, হাইতির বিপক্ষে ম্যাচের তুলনায় এবার অনেক বেশি পরিণত ও ভারসাম্যপূর্ণ ফুটবল খেলেছে তার দল। আক্রমণভাগের সমন্বয়, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণভাগের দৃঢ়তা—সব ক্ষেত্রেই খেলোয়াড়রা নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন। ফলে এই জয়কে তিনি দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আত্মবিশ্বাসের বার্তা হিসেবে দেখছেন।
তবে ম্যাচের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় ছিল Neymar-এর প্রত্যাবর্তন। দীর্ঘ ৯৮১ দিন পর আবারও ব্রাজিলের জার্সি গায়ে মাঠে নামেন দেশটির অন্যতম সেরা এই তারকা ফুটবলার। দীর্ঘ সময় চোট ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকার পর জাতীয় দলে ফিরে আসায় স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে ব্রাজিল শিবিরে।
আনচেলত্তি মনে করেন, নেইমারের ফিরে আসা শুধু একজন খেলোয়াড়ের প্রত্যাবর্তন নয়; এটি পুরো দলের জন্য একটি বড় মানসিক শক্তি। তার উপস্থিতি ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে আরও বৈচিত্র্যময় এবং সৃজনশীল করে তুলবে বলে বিশ্বাস করেন কোচ। প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ নকআউট পর্বে অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ড দলের জন্য বড় ভূমিকা রাখতে পারবেন বলেও আশাবাদী তিনি।
নেইমারের পাশাপাশি পুরো দলের মানসিকতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ারও প্রশংসা করেছেন আনচেলত্তি। তিনি বলেন, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের দলগত সমন্বয় ছিল অসাধারণ। আক্রমণে ওঠার সময় একাধিক খেলোয়াড় অংশ নিয়েছেন এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে দ্রুত রূপান্তর ঘটাতে সক্ষম হয়েছেন, যা আধুনিক ফুটবলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ম্যাচটিতে ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা বলের দখল ধরে রাখার পাশাপাশি প্রতিপক্ষকে খুব বেশি সুযোগ দেয়নি। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ গঠন এবং উইং ব্যবহার করে আক্রমণের ধার বাড়ানোর কৌশল সফলভাবে প্রয়োগ করেছে সেলেসাওরা। ফলে স্কটল্যান্ড পুরো ম্যাচেই চাপে ছিল।
এই জয়ের মাধ্যমে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট সংগ্রহ করে গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে তারা। একই গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে Morocco।
গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় নকআউট পর্বে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থান থেকে অভিযান শুরু করবে ব্রাজিল। দলটির বর্তমান ছন্দ, আক্রমণভাগের কার্যকারিতা এবং নেইমারের মতো অভিজ্ঞ তারকার প্রত্যাবর্তন শিরোপা জয়ের স্বপ্নকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব যত এগিয়ে আসছে, ততই নিজেদের শক্তির জানান দিচ্ছে ব্রাজিল। দলগত ফুটবল, অভিজ্ঞ কোচের কৌশল এবং তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াড—সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপে অন্যতম শিরোপা প্রত্যাশী দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে সেলেসাওরা।