বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) মেক্সিকোর মন্তেরেইয়ে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ২০০২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি হয় ২০১০ বিশ্বকাপের স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা। নকআউটে ওঠার লড়াইয়ে ম্যাচটির গুরুত্ব ছিল অনেক বেশি, আর সেই চ্যালেঞ্জে নিজেদের সেরাটাই উপহার দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে দক্ষিণ কোরিয়া। প্রথমার্ধে একাধিকবার দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করলেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি এশিয়ার দলটি। গোলমুখে তৈরি হওয়া কয়েকটি ভালো সুযোগও নষ্ট করেন কোরিয়ান ফরোয়ার্ডরা।
অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকাও পাল্টা আক্রমণে কয়েকবার প্রতিপক্ষকে বিপদে ফেলেছিল। তবে তাদের আক্রমণভাগও প্রথমার্ধে কার্যকর ফিনিশিং করতে ব্যর্থ হয়। ফলে বিরতিতে যাওয়ার আগে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি বদলানোর লক্ষ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ অধিনায়ক Son Heung-min-কে বদলি হিসেবে মাঠে নামান। তার উপস্থিতিতে আক্রমণের ধার বাড়বে বলে আশা করা হলেও দক্ষিণ আফ্রিকার সংগঠিত রক্ষণভাগের সামনে খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি কোরিয়ানরা।
ম্যাচের ৬৩তম মিনিটে আসে নির্ধারক মুহূর্ত। ডান প্রান্ত থেকে সেপাং মোরেমির নিখুঁত ক্রস পেয়ে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠান Thapelo Maseko। তার গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা এবং স্টেডিয়ামে উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়।
গোল হজম করার পর সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে দক্ষিণ কোরিয়া। শেষ সময় পর্যন্ত একের পর এক আক্রমণ চালালেও দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগ ছিল অত্যন্ত দৃঢ়। বিশেষ করে গোলরক্ষক Ronwen Williams কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলের জয় নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখেন।
নির্ধারিত সময় শেষে ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। এই জয়ের মাধ্যমে তারা শুধু নকআউট পর্বেই উঠেনি, বরং বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে হার দিয়ে অভিযান শুরু করলেও পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে বাফানা বাফানারা। তাদের এই সাফল্য আফ্রিকান ফুটবলের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নকআউট পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা। আগামী ২৯ জুন রাত ১টায় শেষ ৩২-এর ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে সহ-আয়োজক দেশ Canada-এর।
অন্যদিকে একই গ্রুপে দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে Mexico। তিনটি ম্যাচের সবকটিতে জয় তুলে নিয়ে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট অর্জন করেছে তারা। ফলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে মেক্সিকো।