নিহত ব্যক্তির নাম মিক কন্দ দানী (৬০)। তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দমদমীয়া সীমান্তঘেঁষা তুরুং গ্রামের কুলিবস্তি এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত সোকরিয়া কন্দ দানীর ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন Md. Nazmul Haque। তিনি জানান, ঘটনাটি সীমান্ত এলাকায় ঘটলেও প্রাথমিক তদন্তে গুলিবর্ষণ বা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কোনো ধরনের হামলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তের জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি বসবাস করায় মিক কন্দ দানী প্রায়ই ভারতের অভ্যন্তরে গিয়ে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতেন। এছাড়া সীমান্তের ওপারে খাসিয়াদের বিভিন্ন বাগানে শ্রমিক হিসেবেও কাজ করতেন। এলাকাবাসীর দাবি, অনেক সময় তিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায়ও চলাফেরা করতেন।
বুধবার সকাল প্রায় ১১টার দিকে কাঠ ও কাঁঠাল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ শুরু করেন।
একপর্যায়ে সীমান্তের ১২৬০ নম্বর পিলারসংলগ্ন পাহাড়ি তুরুং ছড়ার পানিতে পাথরের ফাঁকে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, পাহাড়ি এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে তিনি মারা যেতে পারেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, নিহতের বাড়ি সীমান্তের খুব কাছাকাছি হওয়ায় তিনি নিয়মিত সীমান্তের ওপারে যাতায়াত করতেন। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
Border Guard Bangladesh-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় Border Security Force (বিএসএফ) কিংবা স্থানীয় খাসিয়াদের গুলির কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে Md. Shafiqul Islam Khan জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। বর্তমানে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে এবং নিহতের পরিবার শোকাহত অবস্থায় রয়েছে।