বুধবার (২৪ জুন) সকালে এ ঘটনা ঘটে। বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, ফ্লাইটটি রানওয়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় উড়োজাহাজের ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দেয়। এ সময় বিমানে মোট ৭০ জন যাত্রী ছিলেন।
ঘটনার পর যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পেরে অনেক যাত্রী দ্রুত বিমান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় লাগেজ সংগ্রহ নিয়েও কিছুটা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। ফলে মুহূর্তের মধ্যে বিমানের ভেতরে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক Kamrul Islam জানান, ককপিটের মনিটরিং সিস্টেমে অগ্নি-সতর্ক সংকেত (ফায়ার ওয়ার্নিং) প্রদর্শিত হলে পাইলট দ্রুত পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেন এবং নির্ধারিত নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করে বিমানটি থামিয়ে দেন।
তিনি বলেন, সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে পাইলট সঙ্গে সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে বিষয়টি অবহিত করেন। এরপর বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ও জরুরি সেবাদানকারী ইউনিটগুলো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়। যাত্রীদের নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের দাবি, উড্ডয়নের আগেই সমস্যাটি শনাক্ত হওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। বিমানটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি মূল্যায়নের পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ফ্লাইটটির সকাল ৭টায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। তবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উড্ডয়ন বিলম্বিত হয়। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন হওয়ার পর ফ্লাইটটি সকাল ৮টার দিকে যাত্রা শুরু করে।
বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার পর যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বিমানবন্দরের জরুরি সেবা দলও প্রস্তুত অবস্থায় ছিল। তবে পুরো ঘটনায় কোনো হতাহত কিংবা গুরুতর শারীরিক ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক উড়োজাহাজে থাকা সতর্কীকরণ ব্যবস্থা সম্ভাব্য ঝুঁকি আগেভাগেই শনাক্ত করতে সহায়তা করে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। এই ঘটনাতেও নিরাপত্তা প্রটোকল দ্রুত কার্যকর হওয়ায় যাত্রীরা নিরাপদে বিমান থেকে বের হতে পেরেছেন।
ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কারিগরি বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে বলে জানা গেছে।