বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই হাইতির দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাকের সামনে কিছুটা চাপে ছিল মরক্কো। আক্রমণভাগে ধারালো ফুটবল খেলতে থাকা হাইতি ম্যাচের ১০ মিনিটেই এগিয়ে যায়। ড্যুভার্নের বাড়ানো বল থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করে দলকে লিড এনে দেন লেনি জোসেফ।
গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় মরক্কো। বলের দখল ও আক্রমণের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে থাকে তারা। এর ফলও পায় ৩৯ মিনিটে। দলের অধিনায়ক Achraf Hakimi দুর্দান্ত এক গোল করে মরক্কোকে সমতায় ফেরান।
তবে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই আবারও চমক দেখায় হাইতি। ম্যাচের ৪৩ মিনিটে বক্সের অনেক দূর থেকে নেওয়া অসাধারণ এক ভলিতে গোল করেন ইসিদর। তার দূরপাল্লার শট মরক্কোর গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জালে জড়ালে দ্বিতীয়বারের মতো এগিয়ে যায় হাইতি।
কিন্তু হাল ছাড়েনি মরক্কো। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে আক্রমণে উঠে গুরুত্বপূর্ণ গোল করেন Ismael Saibari। তার দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ২-২ সমতায় থেকে বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় মরক্কো। বলের দখল, পাসিং এবং আক্রমণভাগের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে ক্রমাগত চাপে রাখে তারা। যদিও দীর্ঘ সময় গোলের দেখা পাচ্ছিল না আফ্রিকান প্রতিনিধিরা।
অবশেষে ম্যাচের ৭৮ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা Soufiane Rahimi নায়ক হয়ে আবির্ভূত হন। তার জোরালো শট প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে প্রবেশ করলে ম্যাচে প্রথমবারের মতো এগিয়ে যায় মরক্কো।
লিড পাওয়ার পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে দলটি। ম্যাচের ৮৯ মিনিটে আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন রাহিমি। তার নিখুঁত পাস থেকে আরেক বদলি খেলোয়াড় ইয়াসিন সহজ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বল জালে পাঠালে ৪-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় মরক্কোর।
দুইবার পিছিয়ে থেকেও চার গোল করে ম্যাচ জেতা মরক্কোর এই পারফরম্যান্সকে চলমান বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। দলটির আক্রমণভাগের কার্যকারিতা এবং মানসিক দৃঢ়তা নকআউট পর্বের আগে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
এই জয়ের ফলে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে শেষ বত্রিশে জায়গা করে নিয়েছে মরক্কো। সমান ৭ পয়েন্ট অর্জন করলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে Brazil। তারা শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে পরাজিত করেছে।
অন্যদিকে ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের তৃতীয় স্থানে রয়েছে Scotland। সেরা তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর তালিকায় থেকে নকআউট পর্বে খেলার সম্ভাবনা এখনও টিকে আছে তাদের।
নকআউট পর্বে ওঠার পর এখন আরও বড় চ্যালেঞ্জের অপেক্ষায় মরক্কো। তবে হাইতির বিপক্ষে দেখানো লড়াকু মানসিকতা ধরে রাখতে পারলে পরবর্তী পর্বেও তারা যে যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য কঠিন পরীক্ষার নাম হতে পারে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।