বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী দাবি করেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিহাসের ‘নিকৃষ্টতম ও ঘৃণ্য ফ্যাসিস্ট’। বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং গত ১৭ বছরের আন্দোলনের আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজভীর বক্তব্য অনুযায়ী, ইতিহাসে পরিচিত ফ্যাসিস্ট শাসকদের সঙ্গে শেখ হাসিনার শাসনামলের তুলনা করে তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতা ধরে রাখতে আওয়ামী লীগ সরকার দমন-পীড়ন, সহিংসতা ও রাজনৈতিক নিপীড়নের আশ্রয় নিয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, বিগত সময়ে ব্যাংক খাত, শেয়ারবাজার এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন সম্পদে ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাট হয়েছে এবং এর মাধ্যমে একটি গোষ্ঠী লাভবান হয়েছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের উত্থান রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার একটি বিশেষ পর্যায়ে ঘটেছে এবং প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে তা দীর্ঘস্থায়ী করার চেষ্টা করা হয়েছে। তার অভিযোগ, ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বিরোধী মত দমনে বলপ্রয়োগ করা হয়েছে এবং এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ১৯৭২–১৯৭৫ এবং ২০০৯–২০২৪ সময়কালে শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, শ্রমজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে সাধারণ নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন।
রিজভীর ভাষ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল জনগণের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও প্রতিবাদের বহিঃপ্রকাশ। তার দাবি, জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করে বারবার বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং স্বাধীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অতীতে যেমন আন্দোলন করেছেন, ভবিষ্যতেও প্রয়োজনে তারা একইভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে রিজভীর উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।