Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

সালমান শাহ-শাবনূর সম্পর্ক নিয়ে ৩০ বছর পর নীলা চৌধুরীর ভিন্ন বক্তব্য

সালমান শাহ-শাবনূর সম্পর্ক নিয়ে ৩০ বছর পর নীলা চৌধুরীর ভিন্ন বক্তব্য

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহের মৃত্যুর প্রায় ৩০ বছর পরও তার মৃত্যুর রহস্য এবং সেই সময়ের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে আলোচনা থামেনি। বিশেষ করে সালমান শাহ ও অভিনেত্রী শাবনূরের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের আলোচনা, গুঞ্জন ও বিতর্ক রয়েছে। এবার সেই পুরোনো প্রসঙ্গে নতুন করে বক্তব্য দিয়েছেন সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরী। তার বক্তব্যে সালমান শাহ ও শাবনূরের সম্পর্ক নিয়ে এতদিনের প্রচলিত আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

সম্প্রতি সালমান শাহ হত্যা মামলায় খল অভিনেতা ডনকে গ্রেপ্তারের পর বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে নীলা চৌধুরী তার ছেলে ও শাবনূরের সম্পর্ক নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন, সালমান শাহ ও শাবনূরের মধ্যে কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। বরং তার ছেলে শাবনূরকে নিজের বোনের মতো দেখতেন। নীলা চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, শাবনূর সালমানের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন এবং সালমান তাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করার চেষ্টা করতেন। শাবনূরকে তিনি স্নেহ করতেন এবং বোনের মতোই দেখতেন বলে দাবি করেন নীলা চৌধুরী।

সালমান শাহের মৃত্যুর পর থেকেই শাবনূরের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলেও বিভিন্ন সময় আলোচনা হয়েছে। তবে শাবনূর বরাবরই তাদের সম্পর্ককে ভাই-বোনের মতো বলে দাবি করে এসেছেন। দীর্ঘদিন পর সালমানের মায়ের বক্তব্যও সেই দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। শাবনূরের ভক্তদের অনেকে নীলা চৌধুরীর বক্তব্যকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা প্রেমের গুঞ্জনকে ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করছেন।

সালমান শাহ ও শাবনূর ছিলেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি। ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সালমান শাহর চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়। এরপর শাবনূরের সঙ্গে ‘তুমি আমার’ চলচ্চিত্রে জুটি বাঁধেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ‘সুজন সখী’, ‘বিচার হবে’, ‘বিক্ষোভ’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘মহামিলন’, ‘তোমাকে চাই’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘জীবন সংসার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘প্রেম পিয়াসী’, ‘স্বপ্নের নায়ক’ ও ‘আনন্দ অশ্রু’সহ মোট ১৪টি চলচ্চিত্রে তারা একসঙ্গে অভিনয় করেন। তাদের জুটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র ব্যবসায়িকভাবেও সফল হয়।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মৃত্যুর পর ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা—এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলে আসছে। বিভিন্ন সময়ের তদন্তে ভিন্ন ভিন্ন বিষয় সামনে এলেও সালমান শাহের পরিবার তার মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে আসছে। ২০২০ সালে পিবিআইয়ের তদন্তে হত্যার প্রমাণ না পাওয়ার কথা জানিয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছিল। সেই প্রতিবেদনে শাবনূরের সঙ্গে সালমানের ঘনিষ্ঠতাকেও আত্মহত্যার পেছনে উল্লেখিত কারণগুলোর একটি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি আবারও আইনি প্রক্রিয়ায় নতুন মোড় নিয়েছে। ২০২৬ সালে সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং মামলাটি নতুন করে তদন্তের আওতায় আসে। মামলায় সালমান শাহের স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। আদালত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখ নির্ধারণ করেছেন। এছাড়া মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সালমান শাহের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।

ফলে প্রায় তিন দশক পর সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনা আবারও দেশজুড়ে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে তার সঙ্গে শাবনূরের সম্পর্ক নিয়েও নীলা চৌধুরীর সাম্প্রতিক বক্তব্য নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে। তবে সালমান শাহের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং মামলায় ওঠা অভিযোগের সত্যতা চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে চলমান তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। তাই এ বিষয়ে প্রচলিত গুঞ্জন ও অভিযোগের পাশাপাশি আদালতের সিদ্ধান্ত এবং তদন্তের ফলাফলকেই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হবে।