Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

সালমান শাহ হত্যা মামলা: ওমরাহ করতে সৌদি যাচ্ছিলেন ডন, বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার

সালমান শাহ হত্যা মামলা: ওমরাহ করতে সৌদি যাচ্ছিলেন ডন, বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার চার নম্বর আসামি ও চলচ্চিত্র অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার পর্যায়ে তাকে আটক করা হয়।

রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন তার মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, অভিনেতা আশরাফুল হক ডনসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়। পরবর্তীতে আদালত মামলাটির অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দেন।

মামলা দায়েরের পর থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন অভিনেতা ডন। রোববার ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরব যাওয়ার উদ্দেশ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গেলে ইমিগ্রেশন পুলিশের নজরে আসেন তিনি। পরে তাকে আটক করে সিআইডিকে বিষয়টি জানানো হয়। এরপর সিআইডির একটি দল বিমানবন্দর থেকে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান বলেন, মামলাটি বর্তমানে সিআইডির অধিকতর তদন্তাধীন। ডনকে গ্রেপ্তারের ফলে তদন্তে নতুন তথ্য ও অগ্রগতি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে মামলার আসামিদের দেশত্যাগ ঠেকাতে আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। একই সময়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে রিকুইজিশন পাঠিয়ে এজাহারে নাম থাকা আসামিদের দেশত্যাগে বাধা দেওয়ার অনুরোধ করেন। ফলে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার সময় ডনকে আটক করা সম্ভব হয়।

সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় ২৯ বছর পর গত বছর তার মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা করার নির্দেশ দেন আদালত। ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক এ আদেশ দেন।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনে নিজ বাসায় চিত্রনায়ক সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মৃত্যুর কারণ নিয়ে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা তার মৃত্যুর ঘটনা অনুসন্ধান করেছে।

সর্বশেষ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যাজনিত বলে উল্লেখ করে। তবে সালমান শাহর পরিবার এবং তার অসংখ্য ভক্ত ওই সিদ্ধান্ত মেনে নেননি। তারা দীর্ঘদিন ধরে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন।

পরবর্তীতে সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১১ জনকে আসামি করা হয়। আদালতের নির্দেশে বর্তমানে মামলাটির অধিকতর তদন্ত করছে সিআইডি।

আশরাফুল হক ডনের গ্রেপ্তারকে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে সিআইডি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনা এবং মামলায় তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।