রাজধানীতে গ্যাস সংকটের তীব্রতা আরও বেড়েছে। উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনেও তীব্র গ্যাস সংকট দেখা গেছে। এতে সিএনজিচালিত যানবাহনের মালিক ও চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দেখা গেছে, গ্যাস নেওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছেন সিএনজিচালিত গাড়ির চালকরা। অনেক চালক ভোর থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না। কোথাও কোথাও দীর্ঘ অপেক্ষার পরও সামান্য পরিমাণ গ্যাস নিয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে তাদের। অনেক চালক মাত্র ২০ থেকে ৫০ টাকার গ্যাস নিতে পারছেন বলে জানা গেছে।
গ্যাসের সংকট এতটাই তীব্র হয়েছে যে রাজধানীর বেশ কিছু সিএনজি ফিলিং স্টেশনে ‘গ্যাস নেই’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে ঘুরেও গ্যাস না পেয়ে বিপাকে পড়ছেন চালকরা। দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করার কারণে যেমন কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, তেমনি যাত্রী পরিবহনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
সিএনজি চালকদের অভিযোগ, গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ না থাকায় প্রতিদিনই তাদের সময় ও অর্থ দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও যদি প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস না পাওয়া যায়, তাহলে দিনের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। অনেক চালক বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে বা বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করছেন।
অন্যদিকে গ্যাস সংকট শুধু পরিবহন খাতেই সীমাবদ্ধ নেই। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসাবাড়িতেও এর তীব্র প্রভাব পড়েছে। অনেক গ্রাহক দিনের বেশিরভাগ সময় চুলায় গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। কোথাও কোথাও চুলায় আগুন জ্বললেও গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। আবার কিছু এলাকায় একেবারেই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা।
রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গ্যাসের চাপ কম থাকায় পরিবারের দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের সময়মতো খাবার প্রস্তুত করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। অনেক পরিবারকে বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। এতে গ্যাস সংকটের পাশাপাশি পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।
সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে সংকটের কারণে গণপরিবহন ব্যবস্থাতেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় অনেক গাড়ি নির্ধারিত সময়ে চলাচল করতে পারছে না। ফলে যাত্রীদেরও দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং কোনো কোনো রুটে যানবাহনের সংখ্যা কমে যেতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্যাসের উৎস থেকে সরবরাহ কমে যাওয়াই বর্তমান সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ। সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে রাজধানীর আবাসিক ও পরিবহন খাতে এই সংকট আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি সংকটপূর্ণ এলাকাগুলোতে কার্যকর ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।
নগরবাসী ও পরিবহন মালিক-চালকরা দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাসের চাপ কম থাকলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা যেমন ব্যাহত হয়, তেমনি পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
রাজধানীর গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আগামী দিনে সিএনজিচালিত যানবাহনের পাশাপাশি আবাসিক গ্রাহকদের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। তাই সংকটের কারণ চিহ্নিত করে দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার দাবি উঠেছে।