Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

প্রাথমিকে যুক্ত হচ্ছে ‘সায়েন্স টয়’, চালু হবে ম্যাথ ল্যাব: ববি হাজ্জাজ

প্রাথমিকে যুক্ত হচ্ছে ‘সায়েন্স টয়’, চালু হবে ম্যাথ ল্যাব: ববি হাজ্জাজ

প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক, সৃজনশীল ও হাতে-কলমে শেখার সুযোগ বাড়াতে কারিকুলামের আওতায় ‘সায়েন্স টয়’ বা বিজ্ঞানভিত্তিক খেলার উপকরণ যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ইউনিসেফ বাংলাদেশ আয়োজিত ‘ফাউন্ডেশনাল লার্নিং অ্যাকশন ট্র্যাকার (এফএলএটি)’ বিষয়ক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

ববি হাজ্জাজ বলেন, শিশুর শেখার প্রক্রিয়াকে শুধু বই ও মুখস্থনির্ভর না রেখে আনন্দময় ও বাস্তবভিত্তিক করতে সরকার কাজ করছে। শিক্ষার্থীরা যেন খেলতে খেলতে এবং বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে বিজ্ঞানের মৌলিক ধারণা অর্জন করতে পারে, সে লক্ষ্যেই প্রাথমিক কারিকুলামে বিজ্ঞানভিত্তিক খেলার উপকরণ যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক শিক্ষায় বিজ্ঞান, গণিত, ডিজাইন ও সৃজনশীলতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘ম্যাথ ল্যাব’ চালুর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এসব ল্যাবে বিভিন্ন শিক্ষামূলক উপকরণ ব্যবহার করে শিশুরা আকার, আকৃতি, যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগের মতো মৌলিক গাণিতিক বিষয় সহজে বুঝতে পারবে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো শিশুদের পড়া, লেখা ও গণিতের মৌলিক দক্ষতার ভিত্তি শক্তিশালী করা। ফাউন্ডেশনাল লার্নিংয়ে ঘাটতি থাকলে পরবর্তী শিক্ষাজীবনে এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই প্রাথমিক স্তর থেকেই শিশুদের শেখার ভিত্তি শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিদ্যালয়-বহির্ভূত শিশুদের শিক্ষার মূলধারায় ফিরিয়ে আনা এবং শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। শিশুদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৬ আগস্ট প্রথমবারের মতো ‘বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম বিতরণ কর্মসূচি’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে বলেও জানান তিনি।

মিড-ডে মিল কর্মসূচি নিয়েও কথা বলেন ববি হাজ্জাজ। তিনি জানান, পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় যেসব ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত হয়েছে, সেগুলো সংশোধন করে আরও বাস্তবসম্মত ও কার্যকর কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শক্তিশালী মনিটরিং ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন শিক্ষণ উপকরণ, গণিত ল্যাব, বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম এবং ফাউন্ডেশনাল লার্নিংয়ের ওপর জোর দেওয়ার উদ্যোগগুলো শিক্ষার্থীদের মৌলিক দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশেষ করে খেলাধুলা ও হাতে-কলমে শেখার মাধ্যমে বিজ্ঞান ও গণিতের প্রতি শিশুদের আগ্রহ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব জেসমিন নাহার, ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ারস, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।