Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

পার্বত্য অঞ্চল ঘিরে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে, সতর্ক করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পার্বত্য অঞ্চল ঘিরে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে, সতর্ক করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পার্বত্য অঞ্চল ও পাহাড়কে ঘিরে একটি মহল গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। দেশের পার্বত্য এলাকাগুলোর শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তা ও সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরকারের উদ্বেগের বিষয়টি সামনে এসেছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ক্রাউন প্লাজায় ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আদিবাসী শব্দটির অযৌক্তিকতা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার জন্য একটি মহল ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ধরনের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের স্বার্থে এ ধরনের কর্মকাণ্ড দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করতে হবে। একই সঙ্গে পার্বত্য এলাকার নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে দেশের সব নাগরিককে সতর্ক এবং ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ পাহাড়ি এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সামাজিক সম্প্রীতি এবং জাতীয় ঐক্যের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য অঞ্চলে নিরাপত্তা, ভূমি, অধিকার, উন্নয়ন এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এসব অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়। এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্য নতুন করে পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহিরউদ্দিন স্বপনও বক্তব্য দেন। তিনি ‘আদিবাসী’ শব্দটি ব্যবহার নিয়ে চলমান বিতর্কের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই বিতর্ককে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের ‘পাতানো ফাঁদে’ পা দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর স্বাধিকার ও অধিকার রক্ষা করার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তাদের সমানভাবে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর বক্তব্যে অধিকার ও উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কর্মসংস্থান এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার রক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দেশের সব জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর হোটেল ক্রাউন প্লাজায় আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, বিশিষ্ট নাগরিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। দিনব্যাপী আয়োজিত এই আলোচনায় প্রায় ৪০ জন বরেণ্য বক্তা তাদের মতামত ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। পার্বত্য অঞ্চল, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর পরিচয়, অধিকার, জাতীয় ঐক্য এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে বক্তারা আলোচনা করেন।

পার্বত্য অঞ্চল বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনধারা রয়েছে। ফলে এ অঞ্চলের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বাস্তবতা এবং তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের সার্বভৌমত্বের বিষয়টিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ দুই দিকের মধ্যে সমন্বয় করেই পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে মূলত পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা অস্থিতিশীলতা যেন দেশের শান্তি ও উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সে বিষয়ে তিনি নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বলেছেন। পাশাপাশি তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর বক্তব্যে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অধিকার সংরক্ষণ এবং জাতীয় উন্নয়নে তাদের সম্পৃক্ত করার বিষয়টিও উঠে এসেছে।

সব মিলিয়ে, পার্বত্য অঞ্চল ঘিরে নিরাপত্তা, জাতীয় ঐক্য, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অধিকার এবং উন্নয়ন—এই চারটি বিষয়কে সামনে রেখে রাজধানীর গোলটেবিল আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য এসেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সতর্কবার্তার পাশাপাশি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অধিকার ও উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি দেশের সব জনগোষ্ঠীকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।