Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

নতুন শর্তে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অর্জিত অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না: হাইকোর্ট

নতুন শর্তে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অর্জিত অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না: হাইকোর্ট

নিয়োগের সময় কার্যকর থাকা বিধিমালা উপেক্ষা করে পরবর্তী সময়ে নতুন কোনো শর্ত বা বিধি আরোপ করে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের অর্জিত আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

চার শিক্ষকের এমপিওভুক্তির দাবিতে করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে দেওয়া রায়ে এ পর্যবেক্ষণ দেন আদালত। ‘মো. আবু হানিফ ও অন্যান্য বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য’ মামলায় এ সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।

গত ৩০ জুন বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি উর্মি রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দেন। রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশ করা হয়েছে। রায়ের মূল অংশ লিখেছেন বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি বিচারপতি উর্মি রহমান।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রবিধান অনুসরণ করে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার রোজি মোজাম্মেল মহিলা কলেজে অর্থনীতি, মনোবিজ্ঞান, ইংরেজি ও সমাজকল্যাণ বিভাগে প্রভাষক পদে মো. আবু হানিফসহ চারজন নিয়োগ পান। ২০১৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর নিয়োগ পাওয়ার পরদিন তারা নিজ নিজ পদে যোগ দেন।

পরবর্তীতে ২০২০ সালের ১৯ এপ্রিল ওই কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বরের এনটিআরসিএ পরিপত্রের আগে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়োগ পাওয়া তৃতীয় শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির সুযোগ দেওয়া হয়।

এর ভিত্তিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর প্রকাশিত ৭২৬ জন শিক্ষকের তালিকায় ওই চার শিক্ষকের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায়ে অনলাইনে তাদের এমপিও আবেদন ‘এনটিআরসিএ সনদ নেই’ কারণ দেখিয়ে বাতিল করা হয়। এরপর ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন চার শিক্ষক।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

রায়ে আদালত বলেন, প্রশাসনিক প্রয়োজনে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ চাকরির বিধিমালা পরিবর্তন বা পরিমার্জন করতে পারে। তবে পরবর্তী সময়ে কোনো বিধি বা শর্ত পরিবর্তন করে আগে থেকেই চাকরিতে যোগ দেওয়া কর্মচারীর অর্জিত অধিকার ক্ষুণ্ন করা যাবে না।

হাইকোর্ট আরও বলেন, ২০১৫ সালে ওই চার শিক্ষক নিয়োগ পাওয়ার সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালায় এনটিআরসিএ সনদের কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। ডিগ্রি পর্যায়ের কলেজ শিক্ষকদের জন্য এনটিআরসিএ সনদের শর্ত ২০১৯ সালের প্রবিধানে প্রথম যুক্ত করা হয়। ফলে ২০১৫ সালে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে যুক্ত হওয়া এ শর্ত প্রয়োগ করা আইনসংগত নয়।

‘তৃতীয় শিক্ষক’ পদ জনবল কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত নয়—রাষ্ট্রপক্ষের এমন যুক্তিও আদালত গ্রহণ করেননি। রায়ে বলা হয়, সরকার বিভিন্ন সময়ে পরিপত্র জারি করে তৃতীয় শিক্ষকদের এমপিও সুবিধার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে এ পদ এমপিও সুবিধার আওতাভুক্ত নয়—এমন দাবি আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

আদালত আরও বলেন, এমপিও প্রদান সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হলেও তা যুক্তিসংগত আইনগত ভিত্তি ছাড়া খেয়ালখুশি বা স্বেচ্ছাচারীভাবে প্রয়োগ করা হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে তা বিচারযোগ্য।

চূড়ান্ত রায়ে এনটিআরসিএ সনদ না থাকার কারণ দেখিয়ে চার শিক্ষকের এমপিও আবেদন বাতিলের অনলাইন সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ওই চার শিক্ষককে এমপিও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে প্রযোজ্য সব বকেয়া বেতন ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা সংশ্লিষ্ট চার শিক্ষককে পরিশোধেরও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।