সরকার গঠনের প্রায় ছয় মাস পর মন্ত্রিসভার আকার আরও বাড়ানো হয়েছে। নতুন করে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যমান একজন প্রতিমন্ত্রীকে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নতুন দায়িত্ব বণ্টনসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। পরবর্তীতে এ বিষয়ে সরকারি গেজেটও প্রকাশ করা হয়েছে।
নতুন দায়িত্ব বণ্টনের ফলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার আকার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া পূর্ণ মন্ত্রী রয়েছেন ২৬ জন এবং প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন ২৪ জন। এর আগে মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৪ জন পূর্ণ মন্ত্রী ও ২৩ জন প্রতিমন্ত্রীসহ মোট ৪৮ সদস্য ছিলেন।
নতুন দায়িত্ব অনুযায়ী স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে আবদুল মঈন খানকে। মির্জা ফখরুল ইসলাম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর পদটি শূন্য হয়েছিল। সেই শূন্য পদে নতুন করে দায়িত্ব পেলেন আবদুল মঈন খান।
এদিকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে পদোন্নতি দিয়ে একই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী করা হয়েছে। এর ফলে মন্ত্রণালয়টির নেতৃত্বে প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণ মন্ত্রী পর্যায়ে পরিবর্তন এসেছে।
অন্যদিকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা) নতুন দায়িত্ব হিসেবে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। মন্ত্রিসভার দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে তাকে নতুন এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে। একই প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়েও নতুন নেতৃত্ব যুক্ত হলো।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন হুমায়ুন কবির। একই সঙ্গে এ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা শামা ওবায়েদ ইসলামও বহাল রয়েছেন। ফলে এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুজন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া শামীম কায়সারকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিসভার এই নতুন রদবদলের মধ্য দিয়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে নেতৃত্ব ও দায়িত্বের পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। নতুন দায়িত্ব পাওয়া মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম, নীতিনির্ধারণ এবং সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেবেন।
সরকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ ও দায়িত্ব পুনর্বণ্টনকে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব গ্রহণের ফলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর চলমান কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।