Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

মস্কোয় লুকিয়ে আছেন আসাদের কুখ্যাত গোয়েন্দাপ্রধান, দাবি বিবিসির

মস্কোয় লুকিয়ে আছেন আসাদের কুখ্যাত গোয়েন্দাপ্রধান, দাবি বিবিসির

সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর দেশটির কুখ্যাত গোয়েন্দাপ্রধান হিসসাম লুকিয়া রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আসাদ সরকারের পতনের পর দামেস্কে লুকিয়ার পরিত্যক্ত বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট থেকে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন নথি, যোগাযোগের তথ্য ও অন্যান্য সূত্রের ভিত্তিতে এই অনুসন্ধান চালানো হয়।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিয়ার জেনারেল সিকিউরিটি ডিরেক্টরেটের সাবেক প্রধান হিসসাম লুকিয়ার ‘দ্য স্পাইডার’ নামে পরিচিত ছিলেন। তার পরিত্যক্ত অ্যাপার্টমেন্টে দামি পোশাক, স্বর্ণপদক এবং বাশার আল-আসাদের সঙ্গে তার ছবি ও করমর্দনের ছবি পাওয়া গেছে। সেখানে একটি সাধারণ নোটবুকে হাতে লেখা ১৫৫টি নাম ও ফোন নম্বরও খুঁজে পান সাংবাদিকরা।

হিসসাম লুকিয়া যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন। সিরিয়ায় ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর নির্যাতন এবং ২০১৫ সালে হোমসে শিশু নিহত হওয়ার ঘটনায় আলোচিত ‘ঈদ গণহত্যা’র সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

আসাদ সরকারের পতনের পর উধাও

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান লুকিয়া। তার বিরুদ্ধে সিরিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবার ও ভুক্তভোগীরা তার বিচারের দাবি জানাতে থাকেন।

বিবিসির অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা তার পরিত্যক্ত অ্যাপার্টমেন্টে পাওয়া নোটবুকের ১৫৫টি নম্বর ধরে অনুসন্ধান শুরু করেন। সামরিক কর্মকর্তা, কমান্ডার ও আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি নোটবুকে থাকা চিকিৎসকদের অ্যাপয়েন্টমেন্টের সূত্রও অনুসরণ করেন তারা।

পরবর্তীতে একটি অ্যাপার্টমেন্টের প্রহরীর দেওয়া তথ্যের মাধ্যমে লুকিয়ার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী মাহমুদের সন্ধান পান সাংবাদিকরা।

বিপুল অর্থ নিয়ে পালানোর দাবি

মাহমুদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আসাদ সরকারের পতনের আগের রাতে রাজধানী দামেস্ক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যান লুকিয়া। পরবর্তী সময়ে লেবাননের বিভিন্ন সূত্র এবং তার অ্যাপার্টমেন্টে পাওয়া রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার পুরস্কার ও নববর্ষের কার্ড থেকেও অনুসন্ধানকারীরা গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পান।

এসব সূত্রের ভিত্তিতে বিবিসির অনুসন্ধানে দাবি করা হয়, লুকিয়া ভিন্ন পরিচয়ে একটি রাশিয়ান পাসপোর্ট ব্যবহার করে লেবানন হয়ে মস্কোয় পালিয়ে যান।

ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা

অনুসন্ধানকারীরা পরে লুকিয়ার একটি রাশিয়ান ফোন নম্বর সংগ্রহ করেন। তার পরিচিত একজনের মাধ্যমে ওই নম্বরে ফোন করে নিশ্চিত হওয়া যায়, ফোনের অপর প্রান্তে লুকিয়াই কথা বলছেন।

পরে বিবিসি সরাসরি ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে লুকিয়া ফোন ধরেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কথা বলা তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে তিনি জানান এবং কোনো ধরনের ব্যাখ্যা দিতে রাজি হননি।

এরপর আরও একটি সিরিয়ান ফোন নম্বর এবং মেসেজিং অ্যাপের তথ্য অনুসরণ করে বিবিসি দাবি করে, হিসসাম লুকিয়া বর্তমানে মস্কোর উপকণ্ঠের দুটি পৃথক উপশহরে আত্মগোপনে রয়েছেন।

প্রত্যর্পণ নিয়ে অনিশ্চয়তা

লুকিয়ার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পরও রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাকে সিরিয়ায় প্রত্যর্পণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি। রাশিয়া এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্যও করেনি বলে জানিয়েছে বিবিসি।

এদিকে সিরিয়ায় লুকিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিচার ও জবাবদিহির দাবি অব্যাহত রয়েছে। হোমসে নিহত শিশুদের পরিবারের সদস্যদের মতো ভুক্তভোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন। লুকিয়া মস্কোয় আত্মগোপনে রয়েছেন—এমন তথ্য তাদের সেই প্রত্যাশাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

সূত্র: বিবিসি