পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে বাংলাদেশের সম্ভাব্যভাবে যুক্ত হওয়ার আগ্রহের বিষয়টি ভারত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল। তিনি বলেছেন, চুক্তিটির কারণে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের সম্ভাব্যভাবে ওই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে জয়সোয়াল এ মন্তব্য করেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআইয়ের প্রতিবেদনে তার বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।
জয়সোয়াল বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান বিভিন্ন ঘটনাবলির ওপর ভারত নিবিড়ভাবে নজর রাখছে। নির্দিষ্টভাবে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রসঙ্গে তিনি জানান, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ভারতের জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় দেশটি সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের আগ্রহের কথা জানান। তার এই বক্তব্যের পর বিষয়টি আঞ্চলিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় আসে। বিশেষ করে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টি ভারতের নজরে এসেছে।
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘিরে বাংলাদেশের আগ্রহের বিষয়ে দিল্লির এই বক্তব্য দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্য, সীমান্ত, পানি, যোগাযোগ, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সম্পর্ক রয়েছে। ফলে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে নতুন কোনো উদ্যোগ ভারতের নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে—এটাই স্বাভাবিক।
এদিকে একই সংবাদ ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। জবাবে রণধীর জয়সোয়াল জানান, সফর নিয়ে এই মুহূর্তে নতুন কোনো তথ্য ভারতের কাছে নেই। সফরের সময়সূচি চূড়ান্ত হলে যথাসময়ে গণমাধ্যমকে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়েও কথা বলেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। তিনি জানান, ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমে কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তিটি ৩০ বছরের জন্য কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। সেই মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে চুক্তির ভবিষ্যৎ, পর্যালোচনা এবং নবায়ন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ, প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর এবং গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়—সব মিলিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু বর্তমানে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে গভীর নজর রাখার বক্তব্যও এ অঞ্চলের পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।