Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন, ভ্রাতৃত্বের বন্ধন জোরদারে প্রস্তুত ইরান

মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন, ভ্রাতৃত্বের বন্ধন জোরদারে প্রস্তুত ইরান

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণে তেহরানের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর তাকে পাঠানো এক অভিনন্দন বার্তায় ইরানের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণকে স্বাগত জানান এবং তার সফলতা কামনা করেন।

অভিনন্দন বার্তায় মাসুদ পেজেশকিয়ান আশা প্রকাশ করেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুলের নেতৃত্ব বাংলাদেশের জনগণের জন্য স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণ আরও শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।

মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, বাংলাদেশের আইনপ্রণেতা ও সংসদীয় প্রতিনিধিরা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অঙ্গীকার, দূরদর্শিতা এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও সুসংহত করার ক্ষেত্রে তার দীর্ঘদিনের অবদানের ওপর যে আস্থা রেখেছেন, তা বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক। নতুন রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান আরও শক্তিশালী হবে বলেও তিনি প্রত্যাশা করেন।

ইরানের প্রেসিডেন্ট তার বার্তায় বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও শক্তিশালী করতে ইরান সরকার ও জনগণ দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে তেহরানের আগ্রহ রয়েছে।

পেজেশকিয়ান আরও জানান, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক সম্মান, অভিন্ন স্বার্থ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে দুই দেশ বিভিন্ন বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করতে পারে বলে মনে করে ইরান।

বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে বাণিজ্য, জ্বালানি, কৃষি, সংস্কৃতি, শিক্ষা এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক যোগাযোগের পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে সহযোগিতা সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ পাওয়ায় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের দায়িত্বকালে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিনন্দন বার্তার শেষাংশে মাসুদ পেজেশকিয়ান নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দায়িত্ব পালনে সাফল্য কামনা করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের শান্তি, সুখ, সমৃদ্ধি ও কল্যাণের জন্য শুভকামনা জানান তিনি।

ইরানের প্রেসিডেন্টের এই অভিনন্দন বার্তা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের অভিনন্দন বার্তার ধারাবাহিকতায় ইরানের এই বার্তায় বাংলাদেশ-ইরান সম্পর্ক আরও গভীর করার আগ্রহের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।