জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) National Citizen Party রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য Dr. Atik Mujahid বলেছেন, রাজনৈতিক সহিংসতা ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, ‘মারতে চান, মেরে ফেলেন। তারপরও সন্ত্রাসী রাজনীতির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে।’
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত নেতা-কর্মীদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এনসিপির শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি শেষে নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে।
ড. আতিক মুজাহিদ অভিযোগ করেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের শহীদদের রক্ত এখনো শুকায়নি, অনেক আহত ব্যক্তি এখনও কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে দল জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করলেও রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, এক কিশোর জুলাই আন্দোলনের কর্মী তার দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। সেই ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত মিছিলের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক উপজেলা সেক্রেটারি ও ছাত্রশক্তির এক নেতার ওপর হামলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আতিক মুজাহিদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিবাদ মিছিল শেষে বাড়ি ফেরার পথে ওই নেতার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে সে বেঁচে আছে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে একটি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে ওঠার প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে সহিংসতার সংস্কৃতি এখনো বন্ধ হয়নি।
রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা বা সহিংসতার ঘটনা বন্ধ হওয়া উচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হলে সহিংসতার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
ড. আতিক বলেন, ‘আমাদের সবাইকে মেরে ফেললেও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সন্ত্রাসী রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হত্যা বা হামলার রাজনীতি বাংলাদেশে আর দেখতে চাই না।’
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, এনসিপি আইনের শাসনে বিশ্বাস করে এবং সরকার এ ঘটনায় কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ ও রাষ্ট্র সংস্কারের অন্যতম লক্ষ্য ছিল সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবসান ঘটানো। মানুষ যেন স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ, রাজনীতি ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে, সেটিই তাদের প্রত্যাশা।
আহত শাওনের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তিনি জানান, তার অবস্থা ভালো নয় এবং ডান চোখে ঠিকমতো দেখতে পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ‘সে পিতৃহীন একটি ছেলে। কোনো কারণ ছাড়াই একজন তরুণকে এভাবে মারধর করা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’
হামলার ঘটনায় দলীয় পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা করা হবে এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।