Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

কামাল-হারুন সিন্ডিকেটে ১০ বছর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

কামাল-হারুন সিন্ডিকেটে ১০ বছর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তার ছেলে শাফি মোদাচ্ছের খানসহ মন্ত্রণালয়ের সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগের অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর অংশ হিসেবে আট ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবের সব ধরনের লেনদেনের তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গোয়েন্দা ইউনিট বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি।

দুদকের অনুসন্ধানে যাদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তার ছেলে শাফি মোদাচ্ছের খান, সাবেক পিএস ও অতিরিক্ত সচিব হারুন অর রশিদ বিশ্বাস, যুগ্মসচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা ইব্রাহিম হোসেন, মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব মনির হোসেন এবং জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপু। চিঠিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে থাকা তাদের হিসাবের লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য সরবরাহের অনুরোধ করা হয়েছে।

গত বছরের ২১ আগস্ট দুদকের প্রধান কার্যালয়ের অনুসন্ধান কর্মকর্তা উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সই করা চিঠির সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। দুদকের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্রও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে গত বছরের ১৫ আগস্ট এ বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম।

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসা অভিযোগ অনুযায়ী, আসাদুজ্জামান খান কামাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকার সময় পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন সংস্থায় নিয়োগ ও পদায়নকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী চক্র গড়ে ওঠে। অভিযোগে সাবেক অতিরিক্ত সচিব হারুন অর রশিদ বিশ্বাসকে এ চক্রের অন্যতম সমন্বয়কারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন করা হতো। জেলা পুলিশ সুপার ও পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের জন্য ৮০ লাখ টাকা থেকে শুরু করে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। একইভাবে ফায়ার সার্ভিসে নিয়োগের ক্ষেত্রেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অনুসন্ধানে এসেছে।

দুদকের অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০২২ সালে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হিসেবে ডিআইজি মোল্ল্যা নজরুল ইসলামের নিয়োগের ক্ষেত্রেও বিপুল অর্থ লেনদেন হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্ত ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা বা এনজিওকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) দেওয়ার ক্ষেত্রেও অর্থ দাবির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় ইতিবাচক প্রতিবেদন থাকার পরও কিছু ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রেখে অর্থ আদায়ের সুযোগ তৈরি করা হতো।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে নিয়োগের ক্ষেত্রেও মন্ত্রীর দপ্তর থেকে তালিকা পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালের ২ অক্টোবর ৫৩৫ জনকে নিয়োগ দেওয়ার সময় মন্ত্রীর দপ্তর থেকে ২৫০ জনের একটি তালিকা পাঠানো হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ নিয়োগে প্রার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৮ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য বা অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা অনুসন্ধানের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে। ব্যাংক হিসাবের লেনদেনের তথ্য চাওয়ার মাধ্যমে দুদক মূলত অভিযোগে উল্লিখিত অর্থের উৎস, লেনদেনের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক কর্মকাণ্ড যাচাই করতে চাইছে।