জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেছেন, জামায়াত কখনোই গুপ্ত সংগঠন ছিল না। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বোঝানোর মাধ্যমে বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে এবং দেশে গণতান্ত্রিক সংস্কার বাস্তবায়নে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিবর্তন প্রয়োজন।
শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর মহাখালীর কলেরা হাসপাতালের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াত আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াত প্রকাশ্য রাজনৈতিক দল হিসেবে সব সময়ই কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। বিভিন্ন আন্দোলনে জামায়াত-শিবিরের সম্পৃক্ততা নিয়ে যে আলোচনা বা অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত মূল্যায়ন জনগণই করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, যার ফলে বিএনপি ধীরে ধীরে ফ্যাসিবাদী রাজনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে দেশকে বের করে আনতে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সংস্কার অপরিহার্য বলেও মত দেন তিনি।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্তদের দ্রুত বিচারের দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম রাজনৈতিক সুবিধাভোগী বিএনপি হলেও দলটি এখন সেই আন্দোলনের মূল চেতনা থেকে সরে এসেছে। নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও বর্তমানে তারা সেই অঙ্গীকার থেকে সরে গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, জুলাই সনদের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছিল। কিন্তু বর্তমানে অনেক দলই সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
গোলাম পরওয়ারের ভাষ্য, কেবল আইনের আংশিক সংশোধনের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। গণভোটের রায়ের আলোকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সংস্কার করতে হবে। তার মতে, এ ধরনের সংস্কার বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রক্ষমতা কোনো একক ব্যক্তি বা সরকারের হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ার সুযোগ কমবে এবং গণতান্ত্রিক ভারসাম্য আরও শক্তিশালী হবে।
সমাবেশে নেতাকর্মীরা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যার অভিযোগে জড়িতদের বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।