Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

ইরান যুদ্ধের ইতি টানতে দ্বিমুখী চাপে ট্রাম্প, বলছে সিএনএন

ইরান যুদ্ধের ইতি টানতে দ্বিমুখী চাপে ট্রাম্প, বলছে সিএনএন

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটানোর পথ খুঁজতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump ঘনিষ্ঠ মিত্রদের কাছ থেকেই পরস্পরবিরোধী বার্তা পাচ্ছেন। একদিকে সৌদি আরব দ্রুত যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছে, অন্যদিকে ইসরায়েল সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উভয় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী Khalid bin Salman Al Saud এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance-এর মাধ্যমে ট্রাম্পের কাছে বার্তা পাঠিয়েছেন সৌদি যুবরাজ Mohammed bin Salman। রিয়াদের আশঙ্কা, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই তারা দ্রুত যুদ্ধের অবসান চায়।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu ওভাল অফিসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে কূটনৈতিক আলোচনার কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি ইরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চাপ বাড়ছে। তেলের দাম বৃদ্ধি, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং সংঘাতের প্রভাব আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে Republican Party-এর জন্য নেতিবাচক হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন দলটির নেতারা। সিএনএনের জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ২৮ শতাংশ মার্কিন নাগরিক এই যুদ্ধে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকেও পরিস্থিতি সহজ নয়। মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান Dan Caine সতর্ক করে বলেছেন, শুধু বিমান হামলার মাধ্যমে যুদ্ধের সব কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামের মজুতও কমে আসছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ ছাড়া বেসামরিক জনগণের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতাও কূটনৈতিক সমাধানের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)-এর প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত Steve Witkoff এবং Jared Kushner সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আশাবাদী হলেও ইরানের বহুমুখী নেতৃত্ব কাঠামোর কারণে স্থায়ী চুক্তি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে Strait of Hormuz পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে QatarPakistan-এর মধ্যস্থতায় একটি স্বল্পমেয়াদি সমঝোতার চেষ্টা চলছে। তবে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।