বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বহরে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন যুক্ত করতে দরপত্র ছাড়াই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ২০০টি ইলেকট্রিক বাস, চার্জিং স্টেশন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকারি অর্থায়নে বিআরটিসির জন্য আনুমানিক ২০০টি ইলেকট্রিক বাস কেনা হবে। এর মধ্যে নারী যাত্রীদের জন্য বিশেষায়িত বাসও থাকবে। পাশাপাশি বাস পরিচালনার জন্য চার্জিং স্টেশন স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের কাজও সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হবে।
সরকারের এই উদ্যোগ ঢাকাসহ দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার অংশ। এর আগে বিআরটিসির জন্য প্রথম ধাপে ১০০টি ইলেকট্রিক বাস, ২৫টি চার্জিং স্টেশন এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণে ৪০০ কোটি টাকা অনুদান বা ইক্যুইটি বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিআরটিসির বর্তমান আর্থিক সক্ষমতা দিয়ে প্রকল্পটির পুরো ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ঋণ নিয়ে অর্থায়ন করলে অতিরিক্ত ঋণ ও সুদের চাপ সৃষ্টি হবে, যা জনসেবামূলক গণপরিবহন পরিচালনার জন্য দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না। এ কারণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের পরিচালন বাজেট থেকে ৪০০ কোটি টাকা অনুদান বা ইক্যুইটি হিসেবে বরাদ্দের অনুরোধ পুনরায় জানানো হয়েছে।
বিআরটিসি জানিয়েছে, বরাদ্দকৃত অর্থ কেবল নির্ধারিত খাতেই ব্যয় করা হবে এবং সরকারি আর্থিক বিধি-বিধান ও সরকারি ক্রয় আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হবে।
প্রস্তাবিত ব্যয়ের মধ্যে ১০০টি ইলেকট্রিক বাস কেনার জন্য ২৫০ কোটি টাকা, ২৫টি চার্জিং স্টেশন স্থাপনে ৫০ কোটি টাকা, যন্ত্রাংশ ও স্পেয়ার পার্টস সংগ্রহে ৩৫ কোটি টাকা, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তায় ২০ কোটি টাকা, পরিবহন, নিবন্ধন ও অন্যান্য ব্যয়ে ২৫ কোটি টাকা এবং ডিপো ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনার উন্নয়ন ও মেরামতে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রথম ধাপের প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০০ কোটি টাকা।
বিআরটিসির মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি ব্যয় ও কার্বন নিঃসরণ কমবে, বায়ুদূষণ হ্রাস পাবে, যাত্রীসেবার মান উন্নত হবে এবং সরকারের ঘোষিত সবুজ পরিবহন করিডোর বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।