Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

ঢাকায় সাড়ে ছয় বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১,৩৮৪, সবচেয়ে বেশি প্রাণ হারিয়েছেন পথচারীরা

ঢাকায় সাড়ে ছয় বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১,৩৮৪, সবচেয়ে বেশি প্রাণ হারিয়েছেন পথচারীরা

রাজধানী ঢাকায় গত সাড়ে ছয় বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১ হাজার ৩৮৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। একই সময়ে আহত হয়েছেন আরও ২ হাজার ৪৮৮ জন। এসব তথ্য জানিয়েছে Road Safety Foundation

শনিবার (১ আগস্ট) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত রাজধানীতে মোট ১ হাজার ৮৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ১ হাজার ৩৪ জন পুরুষ, ২১৯ জন নারী এবং ১৩১ জন শিশু রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি প্রাণ হারিয়েছেন পথচারীরা, যাদের সংখ্যা ৫৯২ জন। এছাড়া ৫৩৬ জন মোটরসাইকেল আরোহী এবং বাস, রিকশা, সিএনজি ও অন্যান্য যানবাহনের চালক-যাত্রী মিলিয়ে ২৫৬ জন নিহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনার সময় বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাতের সময়ই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। এ সময়ে নিহত হয়েছেন ৫১৯ জন, যা মোট মৃত্যুর ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এছাড়া সকালে ২৫৮ জন, দুপুরে ১৯৫ জন, বিকেলে ১৭৪ জন, ভোরে ১৪২ জন এবং সন্ধ্যায় ৯৬ জন নিহত হয়েছেন।

যানবাহনভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ততার দিক থেকে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্যাংকার ও ময়লাবাহী ট্রাকের হার সবচেয়ে বেশি, যা ৩৩ দশমিক ২৫ শতাংশ। এরপর রয়েছে মোটরসাইকেল (২৬ শতাংশ), বাস (২১ দশমিক ৭৫ শতাংশ), অটোরিকশা, সিএনজি ও লেগুনা (১২ দশমিক ৭৩ শতাংশ) এবং মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও জিপ (৬ দশমিক ২৫ শতাংশ)

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, রাজধানীতে রাতে ও ভোরের দিকে দুর্ঘটনা বাড়ার অন্যতম কারণ হলো বাইপাস সড়কের অভাবে রাত ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত ভারী মালবাহী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল। এ সময় রাস্তা পারাপারের সময় পথচারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েন।

সংস্থাটি আরও বলছে, দীর্ঘস্থায়ী যানজট চালকদের মধ্যে অসহিষ্ণুতা ও তাড়াহুড়ার প্রবণতা তৈরি করছে, যা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে। এছাড়া যানবাহনের তুলনায় অপ্রতুল সড়ক, একই সড়কে যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক যানবাহনের চলাচল, ফুটপাত দখল, প্রয়োজনীয় স্থানে ফুটওভার ব্রিজের অভাব, বিদ্যমান ফুটওভার ব্রিজের অনুপযোগিতা এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের অসচেতনতা দুর্ঘটনা বৃদ্ধির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

প্রতিবেদনে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মোহাম্মদপুর, কুড়িল বিশ্বরোড এবং বিমানবন্দর সড়ককে দুর্ঘটনাপ্রবণ ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংস্থাটি রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানি-ভিত্তিক বাস সার্ভিস চালুর সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি Bangladesh Road Transport Authority (বিআরটিএ), Bangladesh Road Transport Corporation (বিআরটিসি), Dhaka Transport Coordination Authority (ডিটিসিএ), সিটি করপোরেশন এবং ট্রাফিক পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।