ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে যাত্রার সময় আরও কমিয়ে আনতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রাজধানী থেকে চট্টগ্রাম যেতে বর্তমানের তুলনায় প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট কম সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
শনিবার (১ আগস্ট) কক্সবাজারের আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে চকরিয়ায় ‘তমা কনস্ট্রাকশন’-এর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নারায়ণগঞ্জ থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত নতুন একটি কর্ডলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) চলছে। এই কর্ডলাইন বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমে যাবে, ফলে যাত্রার সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
তিনি আরও জানান, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার রুটে ‘মহানগর এক্সপ্রেস’ নামে নতুন এক জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ট্রেনটি চালু হলে দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের যাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ হবে। বিশেষ করে চকরিয়া ও আশপাশের এলাকার যাত্রীরা নির্ধারিত সময়ে চট্টগ্রামে পৌঁছে সহজেই ঢাকাগামী ট্রেনের সঙ্গে সংযোগ নিতে পারবেন।
কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন বেসরকারি খাতে পরিচালনার জন্য লিজ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়েও সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে কক্সবাজারমুখী রেলপথের বিভিন্ন স্টেশনের অবকাঠামো, নিরাপত্তা, পরিচালন ব্যবস্থা, যাত্রীসেবা এবং পরিবেশগত বিষয় পর্যালোচনা করছে সংশ্লিষ্ট টিম।
পরিবেশ সংরক্ষণের প্রসঙ্গে হাবিবুর রশিদ বলেন, দোহাজারী-কক্সবাজার ১০২ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণের সময় বন বিভাগের প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার গাছ কাটা হয়েছিল। এর পরিবর্তে যে গাছগুলো রোপণ করা হয়েছে, সেগুলোর বর্তমান অবস্থা যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি আরও কোথায় এবং কত সংখ্যক গাছ লাগানো সম্ভব, সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রেলপথের নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, চকরিয়া, ডুলাহাজারা ও হারবাংসহ বিভিন্ন স্টেশনে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, রেলওয়ে পুলিশের টহল বৃদ্ধি এবং নজরদারি জোরদার করা হবে।
তিনি বলেন, সরকার আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব রেলব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে কাজ করছে। কক্সবাজার রেলপথকে আরও কার্যকর, টেকসই ও যাত্রীবান্ধব করতে সব দিক বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ সময় কক্সবাজার সদর আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।