চলতি অর্থবছরের মধ্যেই দেশের পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, এসব নির্বাচন আয়োজনের জন্য চলতি অর্থবছরের বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং নির্বাচন সম্পন্ন করার সিদ্ধান্তে কোনো ব্যত্যয় হবে না।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ে আয়োজিত পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরের বাজেটে পাঁচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এসব নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। তবে কোন নির্বাচন আগে অনুষ্ঠিত হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ে ভোটগ্রহণ হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি। নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা হবে।
চলতি অর্থবছরে যে পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী, সেগুলো হলো—সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পরিষদ। অর্থাৎ দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ স্তরেই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
মীর শাহে আলম বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি শেষ হলে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে আলোচনা করে নির্বাচনের ক্রম ও সময় নির্ধারণ করা হবে। তবে চলতি অর্থবছরের মধ্যেই পাঁচটি নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। দায়িত্ব নেওয়ার পর ছয় মাসের কার্যক্রমকে তিনি খুব দীর্ঘ সময় হিসেবে দেখছেন না। এ সময়ে খাল, লেক ও রাস্তাঘাট নিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে সরকারের কাজের সামগ্রিক অগ্রগতিতে এখনো পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন বলেও মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রীর মতে, স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকলে উন্নয়ন ও জনসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রশাসনের মাধ্যমে দৈনন্দিন কার্যক্রম চালানো সম্ভব হলেও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি করে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্ব গ্রহণ করলে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের সেবার মানও উন্নত হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সমস্যাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া সহজ হবে।
দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন স্তরে নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক ও জনপরিসরে আলোচনা রয়েছে। নতুন সরকারের পক্ষ থেকে চলতি অর্থবছরের মধ্যেই পাঁচ স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করার ঘোষণা সেই আলোচনাকে আরও গুরুত্ব দিয়েছে। এখন নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি, নির্বাচনের সময়সূচি এবং ধাপে ধাপে ভোট আয়োজনের প্রক্রিয়ার দিকে নজর থাকবে সংশ্লিষ্টদের।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের বিষয় নয়; এটি দেশের তৃণমূল পর্যায়ে প্রশাসনিক জবাবদিহি, জনসম্পৃক্ততা এবং স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্বে ফিরলে স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের চাহিদা ও সমস্যাগুলো নীতিনির্ধারণের প্রক্রিয়ায় আরও কার্যকরভাবে প্রতিফলিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ হলে দেশের স্থানীয় শাসনব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। তবে একই সঙ্গে নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, অর্থায়ন, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের পরিবেশ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।