Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

বিগত সময়ে দক্ষতা বৃদ্ধির নামে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

বিগত সময়ে দক্ষতা বৃদ্ধির নামে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

গত ১৭ বছরে দক্ষতা বৃদ্ধি ও যুব উন্নয়নের নামে বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে এবং এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশ থেকে অর্থ পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তিনি বলেন, দুর্নীতির কারণেই বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ফ্যাসিস্ট হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। একই সময়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সংকুচিত করা হয়েছিল এবং গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট ২০২৬) রাজধানীর এফডিসিতে আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ছায়া সংসদ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। ‘দক্ষ যুবশক্তি গড়ে তুলতে সরকারের চেয়ে বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা বেশি গুরুত্বপূর্ণ’ শীর্ষক বিতর্ক প্রতিযোগিতা উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। এতে সহযোগিতা করে কেয়ার বাংলাদেশ এবং এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজেস বাংলাদেশ।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরে দক্ষতা বৃদ্ধির নামে বিভিন্ন কার্যক্রমকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করা হয়েছিল। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে বিপুল অর্থের অপচয় ও পাচার হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার দাবি, দুর্নীতি ও অনিয়মের ধারাবাহিকতার কারণেই তৎকালীন সরকার জনগণের কাছে ফ্যাসিস্ট সরকার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

বর্তমান সরকারের অবস্থান তুলে ধরে আমিনুল হক বলেন, সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। আগের সরকারের যেসব ভুল ও ব্যর্থতা ছিল, বর্তমান সরকার সেসবের পুনরাবৃত্তি করবে না। প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিবর্তে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করে দেশের যুবসমাজকে কর্মক্ষম ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, শুধু ডিগ্রি অর্জন করলেই একজন তরুণের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয় না। শিক্ষাজীবন শেষে যাতে যুবকদের বেকার হয়ে ঘরে বসে থাকতে না হয়, সে জন্য কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে তাদের দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। দেশে ও বিদেশে যেসব দক্ষ জনশক্তির চাহিদা রয়েছে, সেই চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

যুবকদের মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তরুণ সমাজকে মাদক থেকে মুক্ত রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা গেলে সামাজিক অপরাধও অনেকাংশে কমে আসবে। এ কারণে সরকার খেলাধুলাকে শুধু বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের যেসব স্থানে খালি জায়গা রয়েছে, সেসব জায়গাকে সম্ভাব্য ক্ষেত্রে খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এর মাধ্যমে ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি কর্মমুখী দক্ষতা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে তরুণদের জীবনযাত্রা ভিন্ন হলেও তাদের মৌলিক প্রত্যাশাগুলো প্রায় একই। তরুণরা মানসম্মত শিক্ষা, শোভন কর্মসংস্থান, মর্যাদাপূর্ণ জীবন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা এবং একটি টেকসই ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা করে।

তিনি বলেন, বিগত শাসনামলে চাকরির বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা হয়নি। বরং সার্টিফিকেটনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করলেও তাদের অর্জিত শিক্ষার সঙ্গে চাকরির বাজারের চাহিদার যথেষ্ট সামঞ্জস্য ছিল না। ফলে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বর্তমান সরকারের কর্মমুখী শিক্ষার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার উদ্যোগ প্রয়োজন। দক্ষ যুবশক্তি তৈরি করে তাদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে না পারলে তরুণদের মধ্যে হতাশা বাড়তে পারে।

তিনি আরও বলেন, হতাশাগ্রস্ত তরুণদের একটি অংশ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। তার দাবি, দেশের মোট মাদকাসক্ত মানুষের প্রায় ৮০ শতাংশই তরুণ ও যুবক। কর্মমুখী শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকাও তরুণদের মাদকাসক্তির দিকে ঠেলে দেওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল ও হেরোইনের মতো মাদকের বিস্তার তরুণ সমাজের জন্য বড় ধরনের সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি তৈরি করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিক্ষা, কর্মসংস্থান, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং দক্ষতা উন্নয়নকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বর্তমান সরকারের ‘নতুন কুঁড়ি’ স্পোর্টস কর্মসূচি, মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ, ক্রীড়া ভাতা, খেলার মাঠ তৈরি ও আধুনিকায়নসহ যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তার মতে, এসব কর্মসূচি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে তরুণদের মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখা এবং তাদের সুস্থ, কর্মক্ষম ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘দক্ষ যুবশক্তি গড়ে তুলতে সরকারের চেয়ে বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা বেশি গুরুত্বপূর্ণ’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতায় ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিকে পরাজিত করে বিজয়ী হয় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিক দল।

বিতর্ক প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন, ড. এস এম মোর্শেদ, কেয়ার বাংলাদেশের পরিচালক রওনক জাহান এবং এসওএসের ডেপুটি ন্যাশনাল ডিরেক্টর মো. মাসুদ রানা।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়। আয়োজকদের মতে, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, খেলাধুলা ও মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নীতিনির্ধারণী বিষয়ে তরুণদের যুক্তি ও মতামত প্রকাশের সুযোগ তৈরিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।