রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে আজ (শনিবার) সন্ধ্যায় বৈঠকে বসছে Bangladesh Nationalist Party (বিএনপি)-এর সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে পারে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি ও দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন।
বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, চলতি আগস্ট মাসের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় দলটি বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। এ কারণে রাষ্ট্রপতি পদে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা নিয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে দলীয় নেতাদের একটি অংশের মতে, সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিএনপির চেয়ারম্যান Tarique Rahman-এর ওপরই ছেড়ে দেওয়া হতে পারে।
এর আগে গত ২৬ জুলাই বগুড়ায় এক কর্মসূচিতে বিএনপির মহাসচিব Mirza Fakhrul Islam Alamgir সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় নাকি নির্দলীয় কাউকে প্রার্থী করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেই নেওয়া হবে। তিনি বলেন, সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী দল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
যদিও সম্ভাব্য প্রার্থীর বিষয়ে বিএনপির কোনো জ্যেষ্ঠ নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করেননি। তবে দলীয় অন্দরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম। দীর্ঘদিন ধরে দলের নেতৃত্ব দেওয়া, রাজনৈতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতা এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কারণে তাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি।
এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য Khandaker Mosharraf Hossain, Abdul Moyeen Khan এবং Nazrul Islam Khan-এর নামও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় আলোচনায় রয়েছে।
বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, রাষ্ট্রপতির পদ কেবল আনুষ্ঠানিক নয়; সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষা, সাংবিধানিক সংকট মোকাবিলা এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে এই পদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই দলটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সতর্ক ও পর্যালোচনাভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে চায়।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি Mohammad Shahabuddin পদত্যাগ করার পর সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার Hafiz Uddin Ahmed ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
দলীয় সূত্র আরও জানিয়েছে, বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা কিংবা জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের যে নতুন পদ্ধতির প্রস্তাব ছিল, তা এবার কার্যকর হচ্ছে না। ফলে বর্তমান সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।