রাষ্ট্র সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপির অনীহার কারণেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট আলাদাভাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। জোটের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করা হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে অলি আহমদকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সনদ বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রত্যাশিত উদ্যোগ দেখা যায়নি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার ও জুলাই সনদকে সামনে রেখে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে ১১ দলীয় জোটের একটি প্রত্যাশা ছিল। বিএনপি সংস্কারের পথে এগিয়ে এলে সরকার ও বিরোধী দল আলোচনার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি পদে একজন অভিন্ন প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারত। কিন্তু বিএনপি সেই উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার ভাষ্য, বিএনপি পূর্ববর্তী সরকারগুলোর প্রচলিত রাজনৈতিক ধারা অনুসরণ করছে। এ কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আলাদা প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১১ দলীয় জোট। জোটের পক্ষ থেকে অলি আহমদকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্তকে তিনি রাষ্ট্র সংস্কার ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবির সঙ্গে যুক্ত করেন।
অলি আহমদকে প্রার্থী করার বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে শুধু একটি আনুষ্ঠানিক নির্বাচন হিসেবে না দেখে এর মাধ্যমে রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কারের বিষয়টি সামনে আনার প্রয়োজন ছিল। বিএনপি এ বিষয়ে আগ্রহ না দেখানোয় জোটটি নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে পৃথক প্রার্থী দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৩ আগস্ট এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রার্থীর প্রস্তাবক এবং আরেকজন সংসদ সদস্যকে সমর্থক হতে হয়।
জাতীয় সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। এর আগে জামায়াতে ইসলামী সংখ্যাগরিষ্ঠতার বাস্তবতা বিবেচনায় রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী না দেওয়ার কথা জানিয়েছিল। তবে রাষ্ট্র সংস্কার ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে শেষ পর্যন্ত ১১ দলীয় জোট অলি আহমদকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেয়।
অলি আহমদকে প্রার্থী করার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে জুলাই সনদ, রাষ্ট্র সংস্কার এবং ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।