Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

বাংলাদেশ ভ্রমণে কানাডার নাগরিকদের উচ্চমাত্রার সতর্কতার পরামর্শ

বাংলাদেশ ভ্রমণে কানাডার নাগরিকদের উচ্চমাত্রার সতর্কতার পরামর্শ

রাজনৈতিক অস্থিরতা, অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদের সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় বাংলাদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে নিজ দেশের নাগরিকদের উচ্চমাত্রার সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে কানাডা সরকার। সম্প্রতি কানাডা সরকারের প্রকাশিত ভ্রমণ সতর্কবার্তায় বাংলাদেশে ভ্রমণকারীদের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা—রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে যেকোনো ধরনের ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কানাডা সরকারের ভ্রমণ নির্দেশিকায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সহিংসতা, অপরাধ এবং সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে বাংলাদেশে বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনায় বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি আগের তুলনায় শান্ত থাকলেও রাজনৈতিক কর্মসূচি, বিক্ষোভ, সংঘর্ষ কিংবা আকস্মিক সহিংসতার ঘটনা যেকোনো সময় ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছে কানাডা।

বাংলাদেশে অবস্থানরত বা বাংলাদেশ ভ্রমণে আগ্রহী কানাডার নাগরিকদের পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক কর্মসূচি, মিছিল, সমাবেশ ও বড় ধরনের জনসমাগমের কাছাকাছি না যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। কারণ এসব কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কখনো কখনো সংঘর্ষ ও সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে ভ্রমণ সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ঢাকার বিভিন্ন এলাকাকে নিয়েও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে কানাডা সরকার। বিশেষ করে জাতীয় সংসদ ভবন, সচিবালয়, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মতিঝিল, নয়াপল্টন, পুরানা পল্টন, শাহবাগ, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, উত্তরা ও কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকায় ভ্রমণকারীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এসব এলাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচি, জনসমাবেশ বা আকস্মিক পরিস্থিতির কারণে চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

কানাডার ভ্রমণ নির্দেশনায় পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় ভ্রমণ পুরোপুরি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ওই অঞ্চলে রাজনৈতিক সহিংসতা, জাতিগত সংঘাত, অপহরণ এবং মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছে কানাডা সরকার।

তবে বিশেষ প্রয়োজন বা কোনো কারণে কেউ পার্বত্য চট্টগ্রামে ভ্রমণ করতে চাইলে স্থানীয় প্রশাসনকে আগেই অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভ্রমণকারীদের অন্তত ১০ দিন আগে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা বলা হয়েছে। এতে কোনো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহায়তা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে বলে নির্দেশনায় ধারণা দেওয়া হয়েছে।

নারী ভ্রমণকারীদের জন্যও পৃথক সতর্কতা জারি করেছে কানাডা। একা ভ্রমণ না করার জন্য নারী পর্যটকদের নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি রাতে গণপরিবহন ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অপরিচিত এলাকা বা নির্জন স্থানে চলাচলের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে।

ঢাকার বাইরে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া রাজধানীর বাইরে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। যারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণ করবেন, তাদের স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক কর্মসূচি সম্পর্কে আগে থেকে তথ্য নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ভ্রমণ সতর্কবার্তায় সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ধর্মীয় উৎসব, বড় ধরনের জনসমাগম, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং ভিড়পূর্ণ স্থানে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। এ কারণে ভ্রমণকারীদের জনসমাগমপূর্ণ স্থান এড়িয়ে চলা এবং আশপাশের পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে কানাডা সরকার।

এ ছাড়া সাধারণ ধর্মঘট ও অবরোধের সময় বাংলাদেশে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচির সময় যানবাহন চলাচল বন্ধ বা সীমিত হওয়া, আকস্মিক সংঘর্ষ, রাস্তা অবরোধ এবং অন্যান্য নিরাপত্তাজনিত সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। ভ্রমণকারীদের নিজেদের চলাচলের পরিকল্পনা করার আগে স্থানীয় পরিস্থিতি যাচাই করতে বলা হয়েছে।

কানাডার এমন ভ্রমণ সতর্কতা মূলত দেশটির নাগরিকদের নিরাপত্তা বিবেচনায় জারি করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সরকার নিয়মিতভাবে তাদের নাগরিকদের জন্য বিদেশ ভ্রমণসংক্রান্ত নিরাপত্তা নির্দেশনা প্রকাশ করে থাকে। এসব নির্দেশনায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কানাডার সর্বশেষ সতর্কবার্তায় রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সম্ভাব্য সহিংসতার পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও জনবহুল এলাকাগুলোতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে কানাডার নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নারী ভ্রমণকারীদের একা চলাচল ও রাতে গণপরিবহন ব্যবহার থেকে বিরত থাকা, রাজনৈতিক সমাবেশ ও জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং ধর্মঘট-অবরোধের সময় ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে কানাডা সরকারের ভ্রমণ নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের কথাও বলা হয়েছে।