Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

১৩৪ কোটি টাকার গবেষণা প্রকল্পে আনা ২২ উটপাখির ১৫টি জবাই, উঠেছে নানা প্রশ্ন

১৩৪ কোটি টাকার গবেষণা প্রকল্পে আনা ২২ উটপাখির ১৫টি জবাই, উঠেছে নানা প্রশ্ন

দেশে বাণিজ্যিকভাবে উটপাখি পালনের সম্ভাবনা যাচাই এবং গরু-খাসির বিকল্প মাংসের উৎস অনুসন্ধানের লক্ষ্যে প্রায় ১৩৪ কোটি টাকার একটি গবেষণা প্রকল্পের আওতায় আফ্রিকা থেকে আনা ২২টি উটপাখির মধ্যে ১৫টি জবাই করা হয়েছে। এছাড়া তিনটি উটপাখি মারা গেছে। বর্তমানে প্রকল্পে চারটি উটপাখি থাকার কথা জানানো হলেও সংরক্ষিত শেডে নিয়মিত পর্যবেক্ষণে দুইটির বেশি দেখা যায়নি বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) ‘পোলট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ’ প্রকল্পের আওতায় ২০২০ সালে দুই দফায় এসব উটপাখি আমদানি করা হয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে শুরু হওয়া প্রকল্পটির নেতৃত্বে ছিলেন বিএলআরআইয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সাজেদুল করিম সরকার। গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের জলবায়ুতে উটপাখির অভিযোজন, প্রজনন সক্ষমতা এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা মূল্যায়ন করা।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গবেষণার অংশ হিসেবে মাংসের গুণগত মান ও স্বাদ মূল্যায়নের জন্য ধাপে ধাপে ১৫টি উটপাখি জবাই করা হয়েছে। তবে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও দৃশ্যমান কোনো বাণিজ্যিক সাফল্য বা উল্লেখযোগ্য গবেষণা ফলাফল পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় গবেষণায় প্রাণী ব্যবহারের নৈতিকতা ও প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান বলেন, উটপাখি বাংলাদেশের দেশীয় প্রাণী নয়। তাই স্থানীয় পরিবেশে এদের অভিযোজন সহজ নয়। গবেষণার পরিকল্পনা গ্রহণের সময়ই বিষয়টি আরও গভীরভাবে বিবেচনা করা উচিত ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে, উটপাখি নিয়ে পিএইচডি গবেষণা করা খন্দকার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, গবেষণায় সব সময় কাঙ্ক্ষিত সফলতা আসে না। তিনি জানান, স্থানীয় পরিবেশে উটপাখিকে মানিয়ে নিতে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। মাংসের স্বাদ ও গুণগত মান যাচাইয়ের জন্য কিছু উটপাখি জবাই করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রকল্প পরিচালক ড. সাজেদুল করিম সরকারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বজনপ্রীতি, নিয়োগে অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালকের (সাময়িক দায়িত্ব) ড. শাকিলা ফারুক বলেন, গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল উটপাখির অভিযোজন, খাদ্যাভ্যাস ও মাংসের গুণগত মান মূল্যায়ন করা। এ কারণেই কিছু উটপাখি জবাই করা হয়েছে। তবে প্রকল্পের বিস্তারিত বিষয়ে প্রকল্প পরিচালকই ভালো বলতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন।

এদিকে বিএলআরআইয়ে গবেষণা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। এর আগে গবেষণাধীন মোরগ ও কোয়েল পাখি সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও সামনে আসে। সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানিয়েছেন, বিএলআরআইয়ের বিভিন্ন অনিয়ম তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।