Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

১৩ বছরের শিশুর বিয়ে বন্ধ, বরকে বাড়ি পাঠিয়ে বাবাকে জরিমানা

১৩ বছরের শিশুর বিয়ে বন্ধ, বরকে বাড়ি পাঠিয়ে বাবাকে জরিমানা

খাগড়াছড়ির রামগড়ে ১৩ বছর বয়সী ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিশুর বিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। বিয়ের সব আয়োজন শেষ হওয়ার পর বরযাত্রীদের খাওয়া-দাওয়াও শেষ হয়েছিল। বিয়ে পড়ানোর প্রস্তুতি চলছিল, ঠিক তখনই বিয়েবাড়িতে হাজির হয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

রোববার (৯ আগস্ট) রামগড় উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের থলিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বাল্যবিয়ে আয়োজনের অপরাধে কনের বাবা মো. মহিন উদ্দিন মানিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বিয়ে না দেওয়া এবং প্রাপ্তবয়স্ক কনে ছাড়া বিয়ে না করার বিষয়ে উভয় পক্ষের অভিভাবকদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বরপক্ষকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, থলিপাড়া গ্রামের মো. মহিন উদ্দিন মানিকের ১৩ বছর বয়সী মেয়ে ফারহানার সঙ্গে একই উপজেলার বলিপাড়া গ্রামের মো. ইউছুপের ছেলে ২৫ বছর বয়সী সাখাওয়াত হোসেনের বিয়ের দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। সে অনুযায়ী রোববার কনের বাড়িতে বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন করা হয়। নির্ধারিত সময়ে বরযাত্রীরাও বিয়েবাড়িতে উপস্থিত হন এবং তাদের খাওয়া-দাওয়াও শেষ হয়।

এরই মধ্যে বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে রামগড় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দ্বীন আল জান্নাত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বিয়েবাড়িতে উপস্থিত হন। কনের জন্মনিবন্ধন সনদ যাচাই করে তার বয়স ১৩ বছর নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বিয়ের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেন।

বাল্যবিয়ে আয়োজনের দায়ে কনের বাবা মো. মহিন উদ্দিন মানিককে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর ৮ ধারায় ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ে না দেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষের অভিভাবকদের কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকার নেওয়া হয়।

রামগড় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দ্বীন আল জান্নাত জানান, কনের জন্মনিবন্ধন সনদ অনুযায়ী তার জন্মতারিখ ২ জানুয়ারি ২০১৩। সে বর্তমানে ১৩ বছরের কিছু বেশি বয়সী এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।

তিনি বলেন, শিশুর এই বয়সে বিয়ে দেওয়া শুধু আইনত অপরাধ নয়, এটি অত্যন্ত ক্ষতিকর একটি সামাজিক ব্যাধি। বিয়েবাড়িতে উপস্থিত সবাইকে বাল্যবিয়ের ক্ষতিকর দিক এবং আইনগত বিষয়গুলো বোঝানো হয়েছে। তারা বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন বলেও জানান তিনি।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরও জানান, তার উপস্থিতিতেই পাত্রপক্ষকে তাদের নিজ বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর। এর আগে বিয়ে আয়োজন বা সম্পন্ন করা বাল্যবিবাহ হিসেবে গণ্য হয় এবং এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।