Loading...

  • 10 Jun, 2026

ফটিকছড়িতে বাসের চাপায় বাবা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু, ক্ষুব্ধ জনতার আগুনে পুড়ল বিআরটিসি বাস

ফটিকছড়িতে বাসের চাপায় বাবা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু, ক্ষুব্ধ জনতার আগুনে পুড়ল বিআরটিসি বাস

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকালে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনা এলাকায় ব্যাপক শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত স্থানীয় বাসিন্দারা সংশ্লিষ্ট বাসটি আটক করে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন মুহাম্মদ শাহজাহান (৪৪) ও তাঁর ছেলে মুহাম্মদ আরিফ (১৮)। তাঁরা চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের বাসিন্দা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য হিসেবে পরিচিত শাহজাহানের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একই দুর্ঘটনায় তাঁর তরুণ ছেলে আরিফের প্রাণহানির ঘটনাও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর বেদনার সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল প্রায় ১০টার দিকে একটি বিআরটিসি বাস চট্টগ্রাম শহরের দিকে যাচ্ছিল। বাসটি পাইন্দং ইউনিয়নের আমতল এলাকায় পৌঁছালে দ্রুতগতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে মোটরসাইকেলে থাকা বাবা ও ছেলে গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনাটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে মোটরসাইকেলটি প্রায় সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়। একই সময় বাসটির সঙ্গে একটি অটোরিকশারও সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। যদিও অটোরিকশার যাত্রীদের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে দুর্ঘটনার তীব্রতায় স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

ঘটনার পরপরই এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ জনতা বাসটি ঘিরে ফেলে এবং একপর্যায়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং যানবাহনটির বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তাঁদের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের ফলে আগুন আশপাশে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি।

দুর্ঘটনার কারণে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিক্ষুব্ধ জনতাকে সরিয়ে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

পুলিশ নিহত বাবা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্নের উদ্যোগ নেয়। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাসটির চালককে আটক করা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এতে কারও অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, এই মহাসড়কে প্রায়ই বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চলাচল করে। বিশেষ করে কিছু বাসচালকের অসতর্কতা এবং অতিরিক্ত গতির কারণে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে। তবে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবে পরিস্থিতির খুব বেশি উন্নতি হয়নি। তাঁরা সড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হচ্ছে অতিরিক্ত গতি, চালকদের অসতর্কতা এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করা। এসব দুর্ঘটনা কমাতে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি।

ফটিকছড়ির এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও দেশের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এক পরিবারের দুই সদস্যের একসঙ্গে প্রাণহানির ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনরা দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগ:

ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম, সড়ক দুর্ঘটনা, বাবা-ছেলের মৃত্যু, বিআরটিসি বাস, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা, বাসে আগুন, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, সড়ক নিরাপত্তা, দুর্ঘটনা, খাগড়াছড়ি মহাসড়ক, বাংলাদেশ সংবাদ, ট্রাফিক দুর্ঘটনা, স্থানীয় খবর

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy