Loading...

  • 26 Jul, 2026

অর্থ পাচার বন্ধ করলেই বাড়বে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থানভিত্তিক অর্থনীতি গড়তে চায় সরকার: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

অর্থ পাচার বন্ধ করলেই বাড়বে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থানভিত্তিক অর্থনীতি গড়তে চায় সরকার: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশে বিনিয়োগনির্ভর ও কর্মসংস্থানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে অর্থ পাচার রোধকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেছেন, গত ১৬ বছরে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। এই অর্থ দেশের ভেতরে বিনিয়োগ হলে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নতুন গতি আসবে।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিকস (ডায়রা) আয়োজিত ‘বেঙ্গল কনফারেন্স’-এর দ্বিতীয় দিনের ‘ওয়ে ফরওয়ার্ড ফর এমার্জিং ইন্ডাস্ট্রিজ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

জোনায়েদ সাকি বলেন, কর্মসংস্থানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে প্রথমেই অর্থ পাচার বন্ধ করতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত অর্থনীতিবিষয়ক শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এই অর্থ দেশের ভেতরে থাকলে তা শিল্প ও উৎপাদন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করত এবং পুঁজি অলস না থেকে অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখত।

তিনি আরও বলেন, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। ভিয়েতনামের মতো দেশ একই ধরনের প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেও বাংলাদেশের তুলনায় বেশি উৎপাদনশীলতা অর্জন করছে। এ বাস্তবতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতের মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপন এবং দক্ষ জনবল তৈরিতে সরকার কাজ করছে। পাশাপাশি শিল্প উদ্যোক্তাদের ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ‘আত্মনির্ভর জ্বালানি নীতি’ গ্রহণ করেছে বলেও জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশীয় গ্যাস উত্তোলন বাড়াতে ইতোমধ্যে পাঁচটি নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ১০ বছরের মধ্যে দেশের মোট জ্বালানির অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস—বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ—থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে জমি, ঋণ ও কর-সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্যবসা সহজ করতে সরকারের বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, উদ্যোক্তারা যাতে দ্রুত ব্যবসা শুরু করতে পারেন, সে লক্ষ্যে দুই দিনের মধ্যে লাইসেন্স প্রদান এবং সাত দিনের মধ্যে ইউটিলিটি সংযোগ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তৈরি পোশাক, লজিস্টিকস ও চামড়া শিল্পের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, ইলেকট্রনিকস, অ্যাগ্রো-প্রসেসিং ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ নতুন ৮ থেকে ১০টি সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সেবা খাতের অবদান বেশি হলেও এখন উৎপাদনশীলতাকে অর্থনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার সময় এসেছে।

দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ বলেন, দেশের নীতিমালায় এখনও অনেক ঘাটতি রয়েছে এবং টেকসই বিনিয়োগ পরিবেশ গড়তে পুরো ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন।

বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরাও ব্যবসা পরিচালনায় নীতিগত জটিলতা ও প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন। ব্রেইন স্টেশন ২৩ পিএলসির পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, নীতিগত বাধার কারণে অনেক উদ্যোক্তা বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।

নিউএজ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম বলেন, একটি ব্যবসা শুরু করতে এখনো প্রায় ৫০টি সরকারি সংস্থার অনুমোদন ও ছাড়পত্রের প্রয়োজন হয়। কার্যকর ওয়ান-স্টপ সেবা চালু করতে পারলে ব্যবসার পরিবেশ আরও সহজ হবে।

অ্যাগ্রো কোম্পানি আইফারমারের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার মাকামে মাহমুদ বলেন, দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান নানা প্রশাসনিক জটিলতা এবং লালফিতার দৌরাত্ম্যের কারণে উদ্যোক্তারা মূল্যবান সময় হারান, ফলে নতুন উদ্ভাবন ও ব্যবসা সম্প্রসারণে বাধার সৃষ্টি হয়।