Loading...

  • 20 Sep, 2026
সর্বশেষ

জয়পুরহাটে অন্য জেলায় পাচারের পথে ২০ বস্তা সরকারি সার জব্দ

জয়পুরহাটে অন্য জেলায় পাচারের পথে ২০ বস্তা সরকারি সার জব্দ

জয়পুরহাটে অবৈধভাবে অন্য জেলায় পাচারের সময় ২০ বস্তা সরকারি সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। কৃষকদের জন্য সরকার নির্ধারিত ব্যবস্থার বাইরে সার অন্য জেলায় সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে জানা গেছে। প্রশাসনের অভিযানে সারগুলো জব্দ করার পর তা সরকারি নির্ধারিত মূল্যে স্থানীয় কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের এ অভিযানের ফলে একদিকে যেমন সরকারি সার পাচারের চেষ্টা বন্ধ হয়েছে, অন্যদিকে স্থানীয় কৃষকদের জন্য জব্দ করা সার উন্মুক্ত করা হয়েছে। কৃষি উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হিসেবে সারের সরবরাহ ও মূল্য নিয়ে কৃষকদের মধ্যে যাতে সংকট তৈরি না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

জানা গেছে, জব্দ করা সারগুলো অন্য জেলায় নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। নির্ধারিত এলাকার বাইরে সরকারি সার সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ২০ বস্তা সার জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা সারগুলো নষ্ট বা অন্য কোনো কাজে ব্যবহার না করে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে স্থানীয় কৃষকদের কাছে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়।

স্থানীয় কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি সার নির্ধারিত নিয়ম মেনে বিতরণের কথা। কৃষকদের চাহিদা পূরণে সারের সরবরাহ ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বরাদ্দকৃত সার অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হলে স্থানীয় পর্যায়ে এর প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি সার পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিক্রির ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অভিযানে জব্দ করা ২০ বস্তা সার স্থানীয় কৃষকদের কাছে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করায় কৃষকরা সরাসরি এর সুবিধা পেয়েছেন। এতে নির্ধারিত দামের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে সার কেনার প্রয়োজন হয়নি। একই সঙ্গে সরকারি সারকে কেন্দ্র করে অবৈধভাবে অন্য জেলায় সরবরাহের যে চেষ্টা করা হয়েছিল, সেটিও বন্ধ হয়েছে।

সরকারি সার কৃষকের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সঠিক বিতরণব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে কৃষি মৌসুমে সারের চাহিদা বাড়লে সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়। এ অবস্থায় বরাদ্দ করা সার নির্ধারিত এলাকার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হলে স্থানীয় চাহিদা পূরণে সহায়ক হয়।

জয়পুরহাটে প্রশাসনের এই অভিযানের মাধ্যমে সরকারি সার পাচারের একটি প্রচেষ্টা প্রতিহত হয়েছে। জব্দ করা সার স্থানীয় কৃষকদের কাছে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহারও নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার পাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

প্রশাসনের এমন অভিযান অব্যাহত থাকলে সরকারি বরাদ্দের সার নির্ধারিত এলাকার কৃষকদের কাছে পৌঁছানো এবং বিতরণব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।