দেশে দক্ষ ও মেধাবী চিকিৎসক থাকার পরও চিকিৎসার জন্য রোগীদের ভারত, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, আধুনিক প্রযুক্তি, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, চিকিৎসা-সুবিধা এবং উন্নত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে দেশের চিকিৎসকরাই উন্নত চিকিৎসাসেবা দিতে সক্ষম।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজের রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি ইউনিটে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম সচেতনতা মাস উপলক্ষে আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, দেশে অনেক মেধাবী ও দক্ষ চিকিৎসক রয়েছেন। তাদের সক্ষমতা কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় আধুনিক প্রযুক্তি ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। চিকিৎসকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। এসব ব্যবস্থা উন্নত করা গেলে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার প্রবণতা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা। তিনি জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজের ইনফার্টিলিটি সেন্টারে প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামী বাজেটে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি এ খাতে দক্ষ চিকিৎসক তৈরির জন্য প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়ার কথা বলেন।
বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসাকে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কোনো দম্পতি সন্তান জন্ম দিতে না পারলে অনেক সময় তাদের সামাজিক কটূক্তি ও হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়। চিকিৎসার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব হলে এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকার কারণ নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দেশের চিকিৎসকদের এ ধরনের চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে বলে দাবি করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চিকিৎসকদের দক্ষতা বাড়ানো গেলে দেশে থেকেই অনেক ধরনের উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় দেশের সক্ষমতা রয়েছে এবং এ চিকিৎসার জন্য রোগীদের দেশেই চিকিৎসা নিতে উৎসাহিত করা হবে। এ ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ সাফল্য অর্জন করাও দেশের জন্য বড় সাফল্য হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাস্থ্যসেবায় আধুনিক প্রযুক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে এসেছে। বিশেষায়িত চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষিত জনবল এবং আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি নিশ্চিত করা গেলে দেশের চিকিৎসকদের সক্ষমতা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব—এমন বক্তব্যই উঠে এসেছে সেমিনারে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. আ ন ম বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. মাজহারুল শাহীন এবং হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের চিকিৎসকদের দক্ষতা ও সক্ষমতার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও অবকাঠামোগত সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ বলে সেমিনারে উঠে আসে। বিশেষ করে বন্ধ্যাত্বের মতো বিশেষায়িত চিকিৎসায় দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।