নারী শরীরের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া মাসিক বা পিরিয়ড। তবে এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াটিই অনেক নারীর জন্য শারীরিক অস্বস্তি, ব্যথা এবং নানা সামাজিক সংকোচের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পিরিয়ড চলাকালে শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও নানা ধরনের বিধিনিষেধের মুখোমুখি হতে হয় অনেক নারীকে। এ বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রকাশ্যে কথা বলেছেন বলিউডের একাধিক অভিনেত্রী।
এবার পিরিয়ডের অভিজ্ঞতা নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে আলোচনায় এসেছেন এক বলিউড অভিনেত্রী। তিনি বলেছেন, জীবনের বিভিন্ন সময়ে এমনও হয়েছে যে তিনি ‘হাজারবার প্রার্থনা’ করেছেন, যেন পুরুষদেরও পিরিয়ড হয়। তার এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে মাসিকের সময় নারীদের শারীরিক কষ্ট ও সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে সমাজের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টি সামনে এসেছে।
পিরিয়ডের সময় অনেক নারীর তলপেটে ব্যথা, কোমরব্যথা, মাথাব্যথা, দুর্বলতা, ক্লান্তি কিংবা মেজাজের পরিবর্তনের মতো সমস্যা হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে এসব উপসর্গ তুলনামূলকভাবে হালকা হলেও অন্যদের জন্য তা দৈনন্দিন কাজকর্মে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে কর্মজীবী নারীদের অনেক সময় শারীরিক অস্বস্তির মধ্যেও কাজ চালিয়ে যেতে হয়।
বিনোদন অঙ্গনের নারীরাও এর বাইরে নন। শুটিং, ভ্রমণ, দীর্ঘ সময় কাজ কিংবা ব্যস্ত কর্মসূচির মধ্যেও তাদের পিরিয়ডের সময় শারীরিক সমস্যার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়। ক্যামেরার সামনে স্বাভাবিকভাবে কাজ করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত অস্বস্তি সামলে নেওয়ার অভিজ্ঞতা অনেক অভিনেত্রীই বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেছেন।
পিরিয়ড নিয়ে সামাজিক সংকোচের বিষয়টিও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। অনেক পরিবার ও সমাজে এখনো মাসিককে স্বাভাবিক স্বাস্থ্যগত বিষয় হিসেবে দেখার পরিবর্তে লজ্জা বা গোপনীয়তার বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর ফলে কিশোরী ও নারীরা প্রয়োজনীয় তথ্য, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা মানসিক সহায়তা চাইতেও সংকোচ বোধ করতে পারেন।
অভিনেত্রীর মন্তব্যটি মূলত পিরিয়ডের সময় নারীদের অভিজ্ঞতা নিয়ে তার ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রকাশ। ‘পুরুষদেরও পিরিয়ড হোক’—এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি নারীদের কষ্ট পুরুষদের উপলব্ধির মধ্যে আনার একটি আবেগঘন আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। তার বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বলিউডের নারী তারকারা এর আগেও মাসিক নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। কেউ শুটিং সেটে পিরিয়ডের সময় কাজ করার অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন, কেউ আবার ব্যথা ও শারীরিক অস্বস্তির কথা বলেছেন। এসব বক্তব্যের মাধ্যমে পিরিয়ডকে স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া হিসেবে দেখার পাশাপাশি নারীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাসিক সম্পর্কে সঠিক ধারণা ও সচেতনতা থাকলে এ নিয়ে প্রচলিত অস্বস্তি ও সামাজিক সংকোচ কমানো সম্ভব। কিশোরী বয়স থেকেই মাসিক সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক তথ্য জানা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
পিরিয়ড নিয়ে অভিনেত্রীর এই মন্তব্য তাই শুধু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রকাশ নয়, বরং নারীদের দৈনন্দিন জীবনের একটি বাস্তব বিষয় নিয়ে আলোচনার সুযোগও তৈরি করেছে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির নারী মাসিকের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেলেও তাদের পরিস্থিতি ও সমস্যার ধরন ভিন্ন হতে পারে। এ কারণে বিষয়টিকে লজ্জার নয়, বরং স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনের অংশ হিসেবে দেখার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে।