দেশের ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য স্বস্তির বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাণ খাতের আয় থেকে ৭.৫ শতাংশ কর আরোপের যে আলোচনা ও গুঞ্জন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল, তা বাস্তবায়ন করা হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। জনপ্রিয় ফেসবুক পেজ ‘চিত্ত মিডিয়া’র প্রতিষ্ঠাতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর জুয়েল রানার সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে নিজের ইতিবাচক অবস্থান তুলে ধরেন।
সোমবার (১ জুন) সচিবালয়ে জুয়েল রানাকে আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে তিনি জুয়েল রানার কাজের প্রশংসা করেন এবং দেশের তরুণদের সৃজনশীল ও ডিজিটাল কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের কথা উল্লেখ করেন। কৃষি, প্রকৃতি, সাহিত্য, গ্রামীণ জীবন ও সাধারণ মানুষের গল্পভিত্তিক কনটেন্ট তৈরি করে আলোচনায় আসা ‘চিত্ত মিডিয়া’ বর্তমানে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। মাত্র দেড় বছরের ব্যবধানে পেজটির অনুসারী সংখ্যা ৪৩ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।
বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে জুয়েল রানা জানান, ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ওপর সম্ভাব্য ৭.৫ শতাংশ কর আরোপের বিষয়টি তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উত্থাপন করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ডেকে বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং এমন কোনো কর আরোপের পক্ষে নন বলে স্পষ্ট মতামত ব্যক্ত করেন।
জুয়েল রানার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশের তরুণদের আরও বেশি করে ডিজিটাল অর্থনীতি, অনলাইন মার্কেটিং ও আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হওয়া প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, ফ্রিল্যান্সাররা বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে আয় করে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনছেন, যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তাই তাদের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।
জুয়েল রানা গণমাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বলেছেন, “এরকম কিছু হইতে দেওয়া যাবে না। আমি চাই তরুণরা ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে যাক, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করুক। তারা দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। এটাই বড় বিষয়। ফ্রিল্যান্সাররা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কনটেন্ট ক্রিয়েটররা তাদের পরিবার চালায়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। তাদের ওপর এমন কর আরোপ হওয়া উচিত নয়।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “তারা দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে না, বরং বাইরে থেকে অর্থ দেশে নিয়ে আসে। এটি দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক।”
আলোচনায় জুয়েল রানা যুক্তি তুলে ধরে বলেন, দেশের ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিচ্ছেন। তারা তথ্যপ্রযুক্তি খাতের মাধ্যমে বৈদেশিক আয় বাড়াচ্ছেন এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। ফলে এই খাতকে উৎসাহিত করা প্রয়োজন, নিরুৎসাহিত করা নয়।
জুয়েল রানার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে প্রধানমন্ত্রী তাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “আপনাকে ধন্যবাদ বিষয়টি মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য। কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এমন কোনো সিদ্ধান্ত হবে না ইনশাআল্লাহ। আপনারা নিশ্চিন্তে কাজ করে যান।”
বর্তমানে বাংলাদেশে কয়েক লাখ ফ্রিল্যান্সার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে কাজ করছেন। ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, ভিডিও এডিটিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশন, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টসহ বিভিন্ন খাতে তাঁদের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। একই সঙ্গে ইউটিউব, ফেসবুক, টিকটক ও অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাণও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।
তবে জুয়েল রানার দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের বিষয়টি সামনে এলেও এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন, গেজেট বা লিখিত ঘোষণা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট মহল সরকারি সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে।
ট্যাগ:
ফ্রিল্যান্সার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর, ৭.৫ শতাংশ কর, তারেক রহমান, জুয়েল রানা, চিত্ত মিডিয়া, ডিজিটাল অর্থনীতি, বৈদেশিক মুদ্রা, ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইন আয়, তথ্যপ্রযুক্তি খাত, ডিজিটাল মার্কেটিং, বাংলাদেশ সরকার, তরুণ উদ্যোক্তা, কনটেন্ট নির্মাতা