Loading...

  • 20 Sep, 2026
সর্বশেষ

ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্য, সব ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা

ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্য, সব ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা

 

বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সব ধরনের আগ্রাসন ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনের নিন্দা জানিয়ে যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্যে পৌঁছেছে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান সংঘাত, সামরিক উত্তেজনা ও বিভিন্ন অঞ্চলে অস্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটে ব্রিকসের এই অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যৌথ ঘোষণায় সদস্য দেশগুলো আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় জাতিসংঘ সনদ, আন্তর্জাতিক আইন এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো দেশের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ কিংবা শক্তি প্রয়োগের হুমকির পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানানো হয়েছে।

ব্রিকসের নেতারা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, সামরিক সংঘাত শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মানুষের জীবন ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে না, বরং এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরও পড়ে। তাই সংঘাত নিরসনে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করা প্রয়োজন।

যৌথ ঘোষণায় সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ, সহিংসতা এবং উগ্রপন্থার বিরুদ্ধেও অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের যৌক্তিকতা নেই উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এসব হুমকি মোকাবিলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় দ্বৈত মানদণ্ড পরিহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশ্বের বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ব্রিকসের ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর এই জোট অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিভিন্ন ইস্যুতেও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে। ফলে যৌথ ঘোষণায় আন্তর্জাতিক সংঘাত ও আগ্রাসনের বিষয়ে জোটটির অভিন্ন অবস্থান বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

ঘোষণায় বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্রিকস নেতাদের মতে, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় সব দেশের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কোনো একক শক্তির আধিপত্যের পরিবর্তে পারস্পরিক সম্মান, সহযোগিতা ও আলোচনার ভিত্তিতে বৈশ্বিক সম্পর্ক পরিচালিত হওয়া উচিত।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করা হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থকে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো এবং আর্থিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।

ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় উন্নয়নশীল বিশ্বের বিভিন্ন সংকটের প্রতিও দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। দারিদ্র্য, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং উন্নয়ন বৈষম্যের মতো সমস্যাগুলো মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে একাধিক সামরিক সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্রিকসের মতো বহুপক্ষীয় জোট যদি শান্তিপূর্ণ সমাধান, আন্তর্জাতিক আইন এবং কূটনৈতিক সংলাপের ওপর জোর দেয়, তাহলে বৈশ্বিক কূটনীতিতে এর প্রভাব বাড়তে পারে।

যৌথ ঘোষণায় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থানের পাশাপাশি সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

ব্রিকস নেতাদের এই ঐকমত্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে জোটটির অভিন্ন অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সদস্য দেশগুলো নিজেদের জাতীয় স্বার্থের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের প্রশ্নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

সব মিলিয়ে, ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় সব ধরনের আগ্রাসন ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে যে অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে, তা বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার সময়ে শান্তিপূর্ণ ও বহুপক্ষীয় সমাধানের প্রয়োজনীয়তাকেই সামনে এনেছে। একই সঙ্গে সার্বভৌমত্ব, সমতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছে জোটটি।