Loading...

  • 20 Sep, 2026
সর্বশেষ

মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলা ‘মহাপাপ’, খুতবায় কঠোর বার্তা দুই পবিত্র মসজিদের ইমামের

মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলা ‘মহাপাপ’, খুতবায় কঠোর বার্তা দুই পবিত্র মসজিদের ইমামের

মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাকে ‘মহাপাপ’ এবং ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর গুরুতর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন মসজিদ আল-হারাম ও মসজিদে নববীর ইমামরা। শুক্রবারের খুতবায় তারা পবিত্র মক্কা-মদিনার নিরাপত্তা এবং নিরপরাধ মানুষের জীবন রক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা তুলে ধরেন। সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পবিত্র স্থানকে লক্ষ্য করা নিয়ে কঠোর বার্তা

মসজিদ আল-হারামের ইমাম ও খতিব শেখ বান্দার বালিলা শুক্রবারের খুতবায় বলেন, পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা এবং নিরপরাধ মানুষের জীবন রক্ষা একটি ‘রেড লাইন’। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আল্লাহর ঘর ও নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর মসজিদকে লক্ষ্য করে কোনো ধরনের হামলা বা আতঙ্ক সৃষ্টি ইসলামের শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তিনি আরও বলেন, পবিত্র স্থানকে লক্ষ্য করে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা ইসলামের পবিত্রতার পরিপন্থী। ধর্মীয় স্লোগানকে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড আড়াল করার উপায় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তবে এ বক্তব্যে কোনো নতুন সামরিক পদক্ষেপের ঘোষণা দেওয়া হয়নি; মূলত পবিত্র স্থান ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার গুরুত্বই তুলে ধরা হয়েছে।

মসজিদে নববীর ইমামের বক্তব্য

মসজিদে নববীর ইমাম শেখ আবদুল মহসিন আল-কাসিমও মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করা কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানান। তিনি এসব ঘটনাকে সন্ত্রাসবাদের ধারাবাহিকতার সঙ্গে যুক্ত করে বলেন, এ ধরনের হামলার মাধ্যমে নিরপরাধ মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে।

দুই ইমামের বক্তব্যেই মক্কা ও মদিনার বিশেষ ধর্মীয় মর্যাদা এবং এসব পবিত্র স্থানের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তাদের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল—পবিত্র স্থানকে সংঘাতের অংশে পরিণত করা কিংবা সেখানে হামলার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

মক্কার দক্ষিণে ড্রোন ধ্বংস

এই খুতবার পেছনে রয়েছে মক্কাকে লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক একটি ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংসের ঘটনা। সৌদি আরবের সরকারি সূত্রের বরাতে সৌদি গেজেট জানিয়েছে, ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে মক্কার দক্ষিণে একটি হুথি ড্রোন শনাক্ত করে সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী। ড্রোনটি মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ভূপাতিত করা হয়।

সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেনের বৈধতা সমর্থনকারী জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, ড্রোনটি মক্কার সীমিত আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই প্রতিহত করা হয়েছিল। তিনি ঘটনাটিকে মক্কাকে লক্ষ্য করে হুথিদের দ্বিতীয় প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ২০১৭ সালের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের কথাও স্মরণ করেন।

পবিত্র নগরীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

মক্কা মুসলিমদের জন্য ইসলামের অন্যতম পবিত্রতম স্থান এবং প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ মানুষ হজ ও ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সেখানে যান। ফলে শহরটির নিরাপত্তা নিয়ে যেকোনো ঘটনা ধর্মীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক গুরুত্ব পায়।

এর আগে মিশরের আল-আজহারও মক্কাকে লক্ষ্য করার প্রচেষ্টার নিন্দা জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, পবিত্র নগরীকে সংঘাতের ময়দানে পরিণত করা বা সেখানে হামলার হুমকি দেওয়া ইসলামের পবিত্রতার ওপর আঘাত। মক্কা ও দুই পবিত্র মসজিদের নিরাপত্তাকে কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা অঞ্চলের বিষয় হিসেবে না দেখে মুসলিম বিশ্বের সামগ্রিক ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে আল-আজহার।

মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টা এবং পরবর্তী সময়ে দুই পবিত্র মসজিদের ইমামদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ইমামদের খুতবায় হামলাকে ‘মহাপাপ’ হিসেবে উল্লেখ করার পাশাপাশি নিরপরাধ মানুষের জীবন রক্ষা এবং পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।